মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে যখন কঠোর অবস্থানে ছিল বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), তখন একই সীমান্ত এলাকার অন্য একটি পয়েন্ট দিয়ে সাতজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুক্রবার গভীর রাতে ভারতীয় সীমান্ত থেকে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়। তবে এ ঘটনায় বিজিবি কিংবা পুলিশের কাছে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের ১৪০ নম্বর মেইন পিলারের ৪ এস সাব-পিলার সংলগ্ন এলাকা দিয়ে সাতজন বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাদের মধ্যে চারজন পুরুষ ও তিনজন নারী ছিলেন।
সীমান্ত এলাকার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, রাতের আঁধারে তারা সীমান্ত অতিক্রম করে এপারে আসে। পরে আশপাশের কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। ভোরের দিকে তারা বামন্দী এলাকায় গিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে চলে যায়।
স্থানীয় ভ্যানচালক আকুববার আলী জানান, শনিবার ভোরে ছয়জন যাত্রী ব্যাগ হাতে নিয়ে তার ভ্যানে ওঠেন। তারা এমন একটি স্থানে যেতে চান, যেখান থেকে দূরপাল্লার বাসে ওঠা যায়। ভাড়া বাবদ ৩০০ টাকা চুক্তি হয়। পরে তারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা তুলে ভাড়া পরিশোধ করেন।
তিনি বলেন, কথাবার্তায় তারা নিজেদের বাড়ি গোপালগঞ্জ ও মাগুরা জেলার বলে পরিচয় দেয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেনি।
তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের বাসিন্দা মাসুম আলী বলেন, শুক্রবার গভীর রাতে এক নারী আমাদের আমবাগানে এসে আশ্রয় নেয়। সে খুব বেশি কথা বলছিল না। শুধু নিজের নাম রোজিনা বলে পরিচয় দেয় এবং কান্নাকাটি করছিল।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক নুরুল হুদা বলেন, আমাদের জানামতে এ অঞ্চল দিয়ে কোনো পুশইনের ঘটনা ঘটেনি। তবে দীর্ঘ সীমান্ত এলাকার কোনো অংশ দিয়ে গোপনে কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করিয়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তের অন্য একটি অংশ দিয়ে ছয়জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। ওই ঘটনায় সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন করা হয় এবং সতর্কতা জোরদার করা হয়।
পড়ুন- ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল বন্ধ বেআইনি: শিশির মনির


