ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর লোকদের মধ্যে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০জন আহত হয়েছেন। রোববার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে নাটাই- অষ্টগ্রাম সড়কে তিন ঘন্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় ৪জনকে আটক করে পুলিশ।
স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুর পাড়ে জারু মিয়া নামে এক ব্যক্তির একটি চায়ের দোকান আছে। দোকানটিতে নিয়মিত টেলিভিশন চলায় সারাদিনই দোকানে এবং দোকানের পাশের পুকুরের ঘাটলায় মানুষের জটলা থাকে। এই দোকান থেকে প্রায়ই রাস্তায় চলাচলকারী নারী ও মেয়েদের অপ্রীতিকর মন্তব্য করে আড্ডাবাজরা।
সম্প্রতি গ্রামের একটি সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হয়।পাশাপাশি ছোট গোষ্ঠীর মোঃ জোবায়েরের পক্ষের লোকজনের সাথে একই গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির জয়নাল আবেদীনের পক্ষের লোকজনের মধ্যে আধিপাত্য বিস্তার নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। পূর্ব বিরোধের সাথে চায়ের দোকান উচ্ছেদেও প্রসঙ্গটি নতুন করে যুক্ত হয়। ছোট গোষ্ঠীর লোকজন চায়ের দোকানটি উচ্ছেদের পক্ষে এবং ভূঁইয়া বাড়ির লোকজন দোকান উচ্ছেদের বিপক্ষে অবস্থান নেয়।
এই বিরোধকে কেন্দ্র করে রোববার সকালে দুই পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের উভয়পক্ষের বেশ কয়েকটি দোকানপাট ও বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষ এক পর্যায়ে গ্রামের ভেতর থেকে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ চলে দুপুর একটা পর্যন্ত।
খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে সদর থানা পুলিশের একাধিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুপুর একটার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় নারীসহ উভয়পক্ষের কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হয়। একজন উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, গ্রামে জারু মিয়ার চায়ের দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ শহিদুল ইসলাম জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪জনকে আটক করা হয়েছে।
পড়ুন- ৬ কার্যদিবসে বিচার সম্পন্ন দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন: আইনমন্ত্রী


