বিজ্ঞাপন

স্বল্প খরচে দ্রুত বিচার নিশ্চিতে গ্রাম আদালতের ভূমিকা নিয়ে মুন্সীগঞ্জে কর্মশালা

অল্প সময়ে, স্বল্প খরচে, সঠিক বিচার পেতে চলো যাই গ্রাম আদালতে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলায় গ্রাম আদালত বিষয়ক এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টায় সদর উপজেলা কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ‘জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা’ শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন।
কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়া, সুবিধা এবং সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

২০০৬ সালের গ্রাম আদালত আইন অনুযায়ী ইউনিয়ন পর্যায়ে স্থানীয় ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ দ্রুত ও সহজে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে গ্রাম আদালত গঠিত হয়। এ আদালত সর্বোচ্চ ৩ লাখ টাকা মূল্যমানের ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারে। এখানে কোনো আইনজীবী নিয়োগের বিধান না থাকায় সাধারণ মানুষ নিজেই নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করতে পারেন।

গ্রাম আদালতে চুরি, দাঙ্গা, প্রতারণা, ঝগড়া-বিবাদ, মারামারি, মূল্যবান সম্পত্তি আত্মসাৎ, অন্যায়ভাবে আটক, ভয়ভীতি প্রদর্শন, নারীর শালীনতাহানির উদ্দেশ্যে অপমানজনক কথা বা অঙ্গভঙ্গিসহ বিভিন্ন ধরনের মামলার নিষ্পত্তি করা যায়। এছাড়া পাওনা টাকা আদায়, স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি উদ্ধার, জবরদখল বা ক্ষতির ক্ষতিপূরণ, গবাদিপশুর অনধিকার প্রবেশজনিত ক্ষতিপূরণ, কৃষি শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি এবং স্ত্রীর বকেয়া ভরণপোষণ আদায়ের মতো দেওয়ানি বিরোধও গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।

বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত, সহজ ও স্বল্প ব্যয়ে নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপ কমবে এবং স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদুর রহমান বলেন, “গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় বিচারসেবা পৌঁছে দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এই সেবার সুফল প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে পৌঁছে দিতে সরকারি ও বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।”

সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান হোসেন (সদর সার্কেল)সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা।

পড়ুন:কুড়িগ্রামে সীমান্তে পুশইন ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে বিজিবি

দেখুন:কেন পাচারের টাকা ফেরাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার? |

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন