বিজ্ঞাপন

পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ দম্পতির মুক্তি, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে পরিবার

কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার উত্তর দলদলিয়া মিয়া পাড়ায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা মামলার বাদী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে। আদালতের রায়ে সাজা ভোগ করে কারামুক্ত হওয়ার পরও কয়েকজন অভিযুক্ত ব্যক্তি ভুক্তভোগী পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ করেছেন পরিবারের সদস্যরা। সম্প্রতি অবরুদ্ধ অবস্থায় থাকা এক দম্পতিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে মুক্ত করা হলেও এখনো আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পরিবারটি।

ভুক্তভোগী আশরাফুল ইসলামের পরিবার সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার জাহেরুল ইসলাম ও তার সহযোগীদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। এ বিরোধের জেরে গত ২৪ মার্চ সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে আশরাফুল ইসলামসহ তার পরিবারের আট সদস্য গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন আশরাফুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, আব্দুর রহমান, খবির উদ্দিন, ফরিদুল ইসলাম, রেবা বেগম, শাহিনুর বেগম ও আদরী বেগম। পরিবারের অভিযোগ, হামলার সময় নারী সদস্যদের মারধর করা হয় এবং তাদের ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

ঘটনার পর আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় জাহেরুল ইসলাম, সোহাইবুর রহমান, আমিনুল ইসলাম, এমদাদুল হক, নওয়াব ব্যাপারী, ইদুল ইসলাম, আতাউর রহমান, নাসির ইসলাম, আলমগীর হোসেন, একরামুল হক, রানু ইসলাম, ইমন ইসলাম, শামীম হোসেন, লাভলী বেগম, জবা বেগম, জহুরা বেগম, এশরা বেগম ও রুমি বেগমসহ মোট ১৮ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।

ভুক্তভোগী পরিবার অভিযোগ করে জানায়, মামলা দায়েরের পর থেকেই অভিযুক্তদের কয়েকজন তাদের যাতায়াতে বাধা সৃষ্টি করছে। শুধু তাই নয়, পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ তাদের। বিশেষ করে বৃদ্ধ বাবা-মায়ের চলাচল,মসজিদে নামাজ পড়া একমাত্র পথ ও সুপারি বাগান ও টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেওয়ায় পরিবারটি কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্ক সদস্যদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

পরিবারটির দাবি, অবরুদ্ধ অবস্থার কারণে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছিলেন না। বাজার, চিকিৎসা কিংবা জরুরি প্রয়োজনে বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনের নজরে এলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এবং উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে অবরুদ্ধ পথটি উন্মুক্ত করে দেয়।

এ বিষয়ে উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইবনে আবু সাঈদ বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও নতুন করে কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে আমরা দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। রাস্তা বন্ধ করার বিষয়টি সমাধান করে টিনের বেড়া খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।”

তবে ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, পথ উন্মুক্ত করা হলেও এখনো তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা প্রশাসনের কাছে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিনের জমিজমা বিরোধের কারণে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ধরনের বিরোধ নিরসনে দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনি উদ্যোগ গ্রহণ করা না হলে পুনরায় সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কালাইয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নির্বাচন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রার্থীসহ আহত ৯

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন