বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ

বগুড়ার সেউজগাড়ী এলাকায় অবস্থিত কন্দাল ফসল গবেষণা উপকেন্দ্রে সরকারি বীজ আলু নষ্ট করে পচিয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে উপকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ড. মো. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, সরকারি সম্পদের অপচয় এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গবেষণা উপকেন্দ্রে সংরক্ষিত আনুমানিক ২০০ থেকে ৩০০ মণ সরকারি বীজ আলু যথাযথ সংরক্ষণের অভাবে নষ্ট হয়ে যায়। পরে সেগুলো মাটিতে পচিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সম্প্রতি সরেজমিনে উপকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, গবেষণা কেন্দ্রের একটি গোবর সেডের পাশে বিপুল পরিমাণ আলুর স্তূপ পড়ে রয়েছে। সেখানে কিছু আলু ভালো অবস্থায় থাকলেও অধিকাংশ আলু পচে নষ্ট হয়ে গেছে বলে দৃশ্যমানভাবে দেখা যায়। এ সময় কয়েকজন কর্মকর্তা সংবাদকর্মীদের ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ড. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে অতীতে জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় তিনি আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন।

তাদের অভিযোগ, উপকেন্দ্রে উৎপাদিত বিভিন্ন কৃষিপণ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও বাজারজাত না করায় প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পণ্য নষ্ট হচ্ছে। এতে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সর্বশেষ বিপুল পরিমাণ বীজ আলু নষ্ট হওয়ার ঘটনাও একই ধরনের অব্যবস্থাপনার ফল বলে দাবি করা হচ্ছে।

এদিকে উপকেন্দ্রের এক অসুস্থ শ্রমিকের চিকিৎসার জন্য সংগৃহীত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে প্রধান কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। জানা গেছে, উপকেন্দ্রের শ্রমিক আমির উদ্দিন কর্মরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তার চিকিৎসার জন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ বিভিন্ন কেন্দ্র ও উপকেন্দ্র থেকে আর্থিক সহায়তা সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সেই অর্থ যথাসময়ে তার পরিবারকে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

আমির উদ্দিনের ছেলে মো. মাসুম মিয়া বলেন, “আমার বাবা অসুস্থ হওয়ার পর তার চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে টাকা তোলা হয়েছিল। কিন্তু আমরা বারবার চাইলেও সেই টাকা পাইনি। পরে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হলে কিছু টাকা দেওয়া হয়, তবে বাকি অর্থ এখনও পাইনি।”

অন্যদিকে, গবেষণা কেন্দ্রের অফিস প্রাঙ্গণের পুকুর দীর্ঘদিন অব্যবহৃত থাকায় মাছ চাষের মাধ্যমে সম্ভাব্য সরকারি রাজস্ব আয়ের সুযোগ নষ্ট হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ড. তৌহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ৪৩ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষরযুক্ত একটি আবেদন এক সপ্তাহ আগে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী বলেন, “সরকারি সম্পদ এভাবে নষ্ট করার সুযোগ নেই। বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন তুললেই ভয়ভীতি দেখানো হয়। অতীতেও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

অভিযোগের বিষয়ে প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (ইনচার্জ) ড. মো. তৌহিদুর রহমান বলেন, “আলুগুলো নষ্ট করা হয়নি। এগুলো পচিয়ে জৈব সার তৈরির কাজ করা হচ্ছে।” তবে অন্যান্য অভিযোগের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আগে অবগত ছিলাম না। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।”

এ বিষয়ে গাজীপুরে অবস্থিত কন্দাল ফসল গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোশাররফ হোসেন মোল্লা বলেন, “এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করা হবে। সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগকারীরা দ্রুত একটি নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বিশ্ব পরিবেশ দিবসে হবিগঞ্জে মানববন্ধন, জলাশয় ও খোয়াই নদী রক্ষার দাবি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন