চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নে বিএনপির এক প্রবীণ নেতার বাড়িতে রাতের আঁধারে মানববর্জ্য নিক্ষেপের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার জের ধরে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
জানা যায়, কচুয়াই ইউনিয়নের আজিমপুর ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খন্দকার বাড়ির বাসিন্দা, সাবেক ইউপি সদস্য ও কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জাকির হোসেনের বাড়িতে বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগীর স্ত্রী খুরশিদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, “বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে আমাদের বাড়ির আশপাশে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। পরে রাতের আঁধারে পরিকল্পিতভাবে বাড়িতে মানববর্জ্য নিক্ষেপ করা হয়। এটি শুধু আমাদের পরিবারকে হেয়প্রতিপন্ন করার নয়, সামাজিকভাবে অপমানিত করারও অপচেষ্টা। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”
তিনি আরও জানান, ঘটনার খবর পেয়ে তার স্বামী জাকির হোসেন পটিয়া থেকে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলে পথে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খুরশিদা বেগমের অভিযোগ, ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা-কর্মীর সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তিনি প্রশাসনের কাছে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় যুবদল নেতা শেখ মো. নাছির বলেন, “জাকির হোসেন মেম্বার দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাকে এবং তার পরিবারকে মানসিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি মহল এ ধরনের ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।”
কচুয়াই ইউনিয়ন বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু কারও বাড়িতে এ ধরনের নোংরা ও অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। ঘটনাটি শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো এলাকার সামাজিক পরিবেশের জন্যই বিব্রতকর। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
ঘটনার পর রাতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা ভুক্তভোগীর বাড়িতে যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নেতা মঈন উদ্দিন বাদল, নাজিম উদ্দিন, রতন মল্লিক, শ্রমিক দল নেতা নাছির, জালাল উদ্দিন মানিক, যুবদল নেতা জিকু চৌধুরী, আবু তৈয়ব, এ কে খান, আবদুল গনি, শেখ জসিমসহ আরও অনেকে।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে কচুয়াই ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
পড়ুন : ভোলার আলোচিত মিতু হত্যার তদন্ত প্রক্রিয়াধীন, ফেসবুকে ভুল তথ্য না ছড়ানোর আহ্বান পুলিশ সুপারের


