হামলা বন্ধের শর্তে ইরানকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দিতে সম্মত হয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। এ বিষয়ে অবগত চারটি সূত্রের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরুর পর ইরান পাল্টা আঘাত হানে। এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মিত্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের অর্থনীতি উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়ে।
রয়টার্সকে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দুটি আঞ্চলিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানকে মোট ১০ বিলিয়ন ডলার ছাড় দিতে রাজি হয়েছে আমিরাত। এর মধ্যে ৩ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ ইতোমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অবগত আরও দুটি সূত্র জানিয়েছে, অর্থের পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। তাদের দাবি, ভবিষ্যতে হামলা না চালানোর শর্তেই এই অর্থ ইরানকে দেওয়া হবে।
তবে অর্থটি আমিরাতের নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়া হবে, নাকি দেশটির ব্যাংক বা অন্য কোনো মাধ্যমে আটকে থাকা ইরানের অর্থ ছাড় করা হবে—সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে আমিরাতের এক কর্মকর্তা বলেন, তাদের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক উত্তেজনা কমিয়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। তিনি বলেন, অঞ্চলের জনগণকে সংঘাতের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগসহ সব ধরনের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
সমঝোতা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্রের ভাষ্য, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সংঘাত নিরসনের এমন একটি পথ তৈরি হয়েছে, যেখানে কোনো পক্ষকেই নিজেদের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করতে হচ্ছে না। এতে ইরান যুদ্ধজনিত ক্ষতির ক্ষতিপূরণ পাওয়ার দাবি করতে পারবে, অন্যদিকে ওয়াশিংটনও বলতে পারবে যে তারা কোনো অর্থ প্রদান করেনি।
আরেকটি সূত্র জানায়, অর্থ ছাড়ের বিনিময়ে আমিরাতের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা বন্ধ করবে ইরান। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, অর্থনৈতিক সহযোগিতা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের বিষয়েও আলোচনা রয়েছে।
পড়ুন: প্যারাগুয়েকে হারিয়ে বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ল যুক্তরাষ্ট্র
আর/


