বিজ্ঞাপন

মহররমের আগমনে শুরু হলো নতুন হিজরি বছর

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশে ১৪৪৮ হিজরি সনের মহররম মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় বুধবার (১৭ জুন) থেকে নতুন ইসলামি বছরের সূচনা হয়েছে। এর মাধ্যমে শুরু হলো পবিত্র হিজরি নববর্ষের প্রথম মাস মহররম।

বিজ্ঞাপন

মুসলিম বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ এই সময়টিকে নতুন বছরের শুরু হিসেবে পালন করে থাকেন। তবে এটি প্রচলিত গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের মতো উৎসবমুখর নববর্ষ নয়। বরং ইসলামি নববর্ষকে ধরা হয় আত্মপর্যালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর একটি ধর্মীয় ও ভাবগম্ভীর সময় হিসেবে।

হিজরি নববর্ষের ধারণা

ইসলামি ক্যালেন্ডারের সূচনা চাঁদের গতির ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। সৌরবর্ষের তুলনায় এটি প্রায় ১০ থেকে ১১ দিন ছোট হওয়ায় প্রতি বছর এর তারিখ কিছুটা পরিবর্তিত হয়।

মহররম মাসকে ইসলামি বছরের প্রথম মাস হিসেবে গণনা করা হয়। তাই এই মাসের প্রথম দিন থেকেই নতুন হিজরি বছরের সূচনা ঘটে।

হিজরি সনের উৎপত্তি

হিজরি ক্যালেন্ডারের ইতিহাস ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করেন, যা মুসলিম ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বিবেচিত।

পরবর্তীতে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) প্রশাসনিক সুবিধার জন্য একটি আলাদা ইসলামি বর্ষপঞ্জি চালু করেন। এই হিজরতের ঘটনাকে ভিত্তি করেই হিজরি সনের গণনা শুরু হয়।

নববর্ষের তাৎপর্য

ইসলামি নববর্ষ কেবল সময়ের পরিবর্তন নয়, বরং এটি মানুষের জন্য আত্মসমালোচনার একটি সুযোগ। ধর্মীয় চিন্তাবিদদের মতে, এই সময় মানুষকে নিজের অতীত কর্মকাণ্ড মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।

এ সময়কে জীবনের মূল্য ও সময়ের গুরুত্ব উপলব্ধির একটি বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে দেখা হয়।

মহররম মাসের গুরুত্ব

মহররম ইসলামি ক্যালেন্ডারের চারটি পবিত্র মাসের একটি। কোরআন ও হাদিসে এ মাসের বিশেষ মর্যাদা বর্ণিত হয়েছে। বিশেষ করে ১০ মহররম বা আশুরার দিন ইসলামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার স্মারক হিসেবে বিবেচিত।

এই মাসে নফল ইবাদত ও রোজার বিশেষ ফজিলতের কথাও ধর্মীয়ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইসলামি নববর্ষ পালনের ধারা

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হিজরি নববর্ষ পালনের ধরন ভিন্ন হয়ে থাকে। কোথাও ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। আবার কোথাও হিজরতের ইতিহাস ও শিক্ষা নিয়ে সেমিনার বা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

তবে সাধারণভাবে এই নববর্ষকে কোনো উৎসবের মতো জাঁকজমকভাবে পালন করা হয় না। এটি মূলত একটি আত্মিক ও ভাবনামূলক সময়, যেখানে মানুষ নিজের জীবন ও দায়িত্ব নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ পান।

নতুন বছরের বার্তা

হিজরি নববর্ষ মানুষকে মনে করিয়ে দেয়—পরিবর্তন ও উন্নতির পথ কখনোই বন্ধ হয় না। মহানবী (সা.)-এর হিজরত ধৈর্য, ত্যাগ এবং আল্লাহর ওপর ভরসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

নতুন বছরের শুরুতে অনেকেই নিজেদের ভুল সংশোধন, ভালো কাজের অঙ্গীকার এবং জীবনকে আরও সুন্দরভাবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেন।

পড়ুন: লিওনেল মেসি: ফুটবল ইতিহাসের এক জীবন্ত কিংবদন্তি

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন