বিজ্ঞাপন

জাইমা রহমানের সাথে গল্পে-আড্ডায় উজ্জীবিত শিশুরা

ঢাকার ব্যস্ত নগরের এক কোণে, লেকের শান্ত জলরেখা ছুঁয়ে থাকা এক বিকেলে জমেছিল অন্যরকম এক আড্ডা। সেখানে ছিল না কোনো আনুষ্ঠানিকতার কঠোরতা, ছিল না বক্তৃতার দীর্ঘ পর্ব। ছিল শিশুদের স্বপ্ন, প্রশ্ন আর সম্ভাবনার গল্প। সেই গল্পের সঙ্গী হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী কন্যা জাইমা রহমান।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা ও আখাউড়া উপজেলার বিভিন্ন পর্যায়ের কৃতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রায় তিন ঘণ্টা সময় কাটান তিনি। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনের সংসদ সদস্য মুশফিকুর রহমানের কন্যা মেহভীন রহমান মুনিয়ার উদ্যোগে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
আড্ডার শুরু থেকেই প্রাণবন্ত ছিলেন জাইমা রহমান। শিশুদের একজন একজন করে কাছে ডেকে তাদের স্বপ্ন, ইচ্ছা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানতে চান। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও জীবনদক্ষতা অর্জনের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। নিজের জীবনের নানা অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে শিশুদের সামনে সম্ভাবনার নতুন জানালা খুলে দেন তিনি।

একপর্যায়ে শিশুদের কাছে জানতে চান, তারা রান্না করতে পারে কি না। কয়েকজন শিক্ষার্থী ইতিবাচক উত্তর দিলে তিনি মজা করে বলেন, একদিন তাদের এলাকায় গেলে কী খাওয়াবে। শিশুরা জানায়, তারা বিরিয়ানি রান্না করবে। উত্তরে জাইমা রহমান হাসিমুখে বলেন, বিরিয়ানির সঙ্গে ইলিশ মাছও হলে মন্দ হয় না।
রামধননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নাহিয়ান ওসমান রাহিন বলে, “খুব ভালো লেগেছে। এত কাছ থেকে উনার সঙ্গে কথা বলব, ভাবিনি। তিনি আমাদের পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা করতেও বলেছেন।”

সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌস বাবলী বলেন, “শিশুরা প্রধানমন্ত্রী কন্যার সঙ্গে অসাধারণ সময় কাটিয়েছে। তিনি প্রতিটি শিশুর কথা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন, নিজের অভিজ্ঞতার কথাও বলেছেন। এতে শিশুরা অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছে।”

আখাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ড. দৌলত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, “এ ধরনের আয়োজন শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা নিজেদের স্বপ্ন ও সম্ভাবনা নিয়ে নতুনভাবে ভাবার সুযোগ পেয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাপসী রাবেয়া বলেন, “আমরা আশা করিনি তিনি এত দীর্ঘ সময় শিশুদের সঙ্গে কাটাবেন। প্রতিটি শিশুর কথা শুনে তাদের উৎসাহ দিয়েছেন। এটি শিশুদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে।”

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামার আগে আড্ডা শেষ হয়। তবে শিশুদের মনে রয়ে যায় কিছু উৎসাহের কথা, কিছু স্বপ্নের আলো আর ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাওয়ার নতুন প্রেরণা।

পড়ুন- নাটোরে ৫ বছরের শিশু ধর্ষণ মামলায় বৃদ্ধের যাবজ্জীবন

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন