নেত্রকোনার বারহাট্টায় ধনাইখালি নদী থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে রফিকুল ইসলাম নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত রফিকুল ইসলাম কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলা সদরের পিউরি গ্রামের আব্দুস ছাত্তারের ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ধনাইখালি নদীর সাহতাসেতু এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানটিতে নেতৃত্ব দেন বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তার।
ইউএনও’র কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সরকারের বিনা অনুমতিতে সাহতা ইউনিয়নের ধনাইখালি নদীর সাহতাসেতু এলাকা থেকে নিষিদ্ধ ড্রেজার মেশিন ব্যবহার করে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছিল। এমন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে উপজেলা প্রশাসন। সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা আক্তার অবৈধ বালু উত্তোলনকারী রফিকুল ইসলামকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সময় সাহতা ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক, পুলিশ বাহিনীর সদস্যবৃন্দ এবং উপজেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীগণ উপস্থিত থেকে অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
এদিকে, প্রশাসনের এই অভিযানের পর স্থানীয়দের মাঝে স্বস্তি ফিরে এলেও তৈরি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এলাকার অনেকের অভিযোগ, ধনাইখালি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের সাথে স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সরাসরি জড়িত রয়েছেন। বাজিতপুর থেকে আসা রফিকুল ইসলাম ভ্রাম্যমাণ আদালতের কাছে ধরা পড়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হলেও, নেপথ্যের ওই স্থানীয় প্রভাবশালীরা সম্পূর্ণভাবে পর্দার আড়ালেই রয়ে গেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, নদী ও পরিবেশ রক্ষায় কেবল শ্রমিক বা বাইরের লোকদের জরিমানা করলেই হবে না, বরং নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত এবং কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

