বিজ্ঞাপন

চাকরি মেলায় কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত: ১৩২ জন তরুণ-তরুণীর চাকরি নিশ্চিত

ক্ষুদ্র উদ্যোগে মানব সক্ষমতা বৃদ্ধি’ এই মূলমন্ত্র নিয়ে সোমবার কক্সবাজারে দিনব্যাপী চাকরি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর সহযোগী সংস্থা বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপলস সেলফ ডেভেলপমেন্ট-এর উদ্যোগে ‘অনানুষ্ঠানিক খাতের কর্মসংস্থান পুনরুদ্ধার ও উন্নয়ন (RAISE)’ প্রকল্পের অধীনে শহরের পাবলিক লাইব্রেরী অডিটোরিয়ামে বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপলস সেলফ ডেভেলপমেন্ট এর নির্বাহী পরিচালক জনাব রুহি দাস এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় ।

বিজ্ঞাপন

প্রধান অতিথি হিসেবে কক্সবাজার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব মো: আজহার উদ্দিন সকাল ১১টায় মেলার উদ্বোধন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন জনাব গোলাম জিলানী ব্যবস্থাপক, পিকেএসএফ এবং উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী রেইজ ও জনাব জাহানারা ইসলাম, সভাপতি, কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি।
অতিথিরা মেলার বিভিন্ন স্টল পরিদর্শন করেন এবং অংশগ্রহণকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

উক্ত মেলায় ওয়াল্টন, বিডিজবস.কম, হোটেল গ্র্যান্ড প্যাসিফিক, প্রাণ-আরএফএল, হ্যামকো সহ হস্তশিল্পের মোট ২২টি প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে।

এই উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান অতিথি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জনাব,মো: আজহার উদ্দিন বলেন, RAISE প্রকল্পের মতো কর্মসংস্থানমুখী উদ্যোগগুলো যুবকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তিনি উল্লেখ করেন যে, শিক্ষানবিশি কর্মসূচিগুলো, বিশেষ করে প্রযুক্তি-চালিত খাতগুলোতে, তরুণদের জাতীয় অর্থনীতিতে আরও কার্যকরভাবে অবদান রাখতে সাহায্য করছে। তিনি পিকেএসএফ এবং বিশ্বব্যাংকের আর্থিক সহায়তায় বাস্তব ইনিসিয়েটিভ ফর পিপলস সেলফ ডেভেলপমেন্ট কর্তৃক বাস্তবায়িত RAISE প্রকল্পের কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি এই ধরনের কার্যকর দক্ষতা উন্নয়ন উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ সরকার এবং পিকেএসএফ-এর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেন।ভবিষ্যতে এই ধরনের মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করা হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি RAISE প্রকল্পের উপ-প্রকল্প সমন্বয়কারী এবং পিকেএসএফ-এর ব্যবস্থাপক জনাব গোলাম জিলানী বলেন “বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক কর্মবাজারে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কোনো বিকল্প নেই। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও চাকরি প্রত্যাশীদের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপনের ক্ষেত্রে বাস্তব ও পিকেএসএফ জব ফেয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এ ধরনের উদ্যোগ যুব সমাজকে আত্মনির্ভরশীল ও অর্থনৈতিকভাবে সক্ষম করে গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তিনি অংশগ্রহণকারী নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানসমূহকে যোগ্য প্রার্থীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ প্রদানের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।”

বাস্তব সংস্থার প্রধান নির্বাহী জনাব রুহি দাস বলেন, রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে প্রশিক্ষিত যুবকদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বাস্তব সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের আয়োজনের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপিত হচ্ছে, যা বেকারত্ব হ্রাস এবং স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে ইতিবাচক অবদান রাখবে। তিনি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সহযোগিতার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল নিয়োগকর্তা প্রতিষ্ঠান, পিকেএসএফ কে ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও আরও ছিলেন পিকেএসএফ রেইজ প্রকল্পের প্রোগ্রাম অফিসার জনাব মো. জহিরুল ইসলাম, জনাব জাহানারা ইসলাম সভাপতি কক্সবাজার উইমেন চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি, জনাব রঞ্জিত চন্দ্র দাস, সহ: প্রধান নির্বাহী, জনাব রুস্তম আলী মোল্লা, হেড অব অডিট, মো: রেজওয়ান ইসলাম, কোর্ডিনেটর রেইজ প্রজেক্ট, বাস্তব সংস্থা ও প্রকল্পের অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

মেলায় চলাকালীন মোট ৩৪২ জন চাকরি প্রত্যাশী অংশগ্রহণ করেন। এর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ১৩২ জন প্রার্থী চাকরির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন, যার মাঝে ৭৩ জন ছেলে ও ৫৯ জন মেয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, বিডিজবস.কম-এর প্রতিনিধিরাও অংশগ্রহণকারীদের ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং প্রদান করেন।

পিকেএসএফ,রেইজ (RAISE) প্রকল্পের মাধ্যমে গুরু-শিষ্য মডেল ব্যবহার করে প্রায় ৭৩,০০০ বেকার যুবককে ট্রেড-ভিত্তিক কারিগরি ও জীবন দক্ষতা প্রশিক্ষণ প্রদান করে আসছে। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে পিকেএসএফ-এর ৯০টি সহযোগী সংস্থাগুলো দেশজুড়ে অনুরূপ চাকরি মেলার আয়োজন করবে।

পড়ুন: চার মাসের অপেক্ষার অবসান, হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ‘বাংলার জয়যাত্রা’

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন