বিজ্ঞাপন

৯৬ বছরেও আধুনিকায়ন হয়নি রাজশাহীর রেল সিগন্যালিং ব্যবস্থা

ব্রিটিশ শাসনামল থেকে নন-ইন্টারলক সিগন্যালিং পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে রাজশাহী অঞ্চলের অন্তত ১২টি রেলস্টেশন, যার মধ্যে সরদহ রোড ও সরদহ স্টেশন অন্যতম। দীর্ঘ ৯৬ বছর পেরিয়ে গেলেও এসব স্টেশনের আধুনিকায়ন না হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি ও দুর্ঘটনার শঙ্কা রয়ে গেছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

বিজ্ঞাপন

ঐতিহাসিক সূত্রে জানা যায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ১৯১২ সালে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার (পিটিসি) প্রতিষ্ঠিত হয়, যা পরে বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি (বিপিএ) নামে পরিচিত হয়। ওই সময় মূলত ব্রিটিশ বাহিনীর প্রশিক্ষণ ও যাতায়াত সুবিধার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা হয়। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৩০ সালে পিটিসিকে কেন্দ্র করে নন-ইন্টারলক সরদহ রোড রেলস্টেশন নির্মাণ করা হয়।

রাজশাহী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই সরদহ রোড স্টেশনটি আব্দুল্লাহপুর থেকে আমনুরা ব্রডগেজ রেললাইনের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত। ১৯১৫–১৬ সালের দিকে সারাঘাট–সিরাজগঞ্জ রেলওয়ে কোম্পানি সারাঘাট–সিরাজগঞ্জ রেললাইন নির্মাণ করে। পরে ১৯৩০ সালে আব্দুল্লাহপুর থেকে আমনুরা পর্যন্ত ব্রডগেজ লাইন চালু করা হয়।

বর্তমানে এই নন-ইন্টারলক সিগন্যালিং ব্যবস্থা আধুনিক রেল ব্যবস্থায় ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সহকারী স্টেশন মাস্টার ফরহাদ হোসেন বলেন, “পুরোনো নন-ইন্টারলক সিস্টেমের কারণে সিগন্যালিং দুর্বল থাকে, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়।”

রাজশাহী রেলওয়ে বিভাগীয় মহাব্যবস্থাপক ফরিদ আহম্মেদ বলেন, বাজেট সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। “সার্বিক আধুনিকায়নের জন্য একনেকে প্রকল্প অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। তবে ভবিষ্যতে রেল ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করা হবে,” বলেন তিনি।

এদিকে চারঘাট উপজেলার সরদহ রোড স্টেশন দীর্ঘদিন ধরে অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তাহীনতা এবং আন্তঃনগর ট্রেনের সীমিত স্টপেজের কারণে ভোগান্তিতে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, এই স্টেশন দিয়ে প্রতিদিন দক্ষিণ ও উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটে প্রায় ৩০ থেকে ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। তবে মাত্র একটি আন্তঃনগরসহ মোট পাঁচটি ট্রেন এখানে যাত্রাবিরতি দেয়, ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।

চারঘাট–বাঘা-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাইদ চাঁদ জানিয়েছেন, আধুনিক রেল ব্যবস্থাপনার দাবি নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন, সভা-সমাবেশ এবং বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ চালিয়ে আসছেন। তিনি বলেন, “এই এলাকার রেল যোগাযোগ উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছি। আমাদের এই প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।”

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন