বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় আলোর মুখ দেখেনি তদন্ত প্রতিবেদন

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় এলজিইডির গ্রামীণ সড়কের পাশের সরকারি গাছ কাটার ঘটনায় তদন্ত কার্যক্রম দীর্ঘসূত্রতায় পড়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে তদন্ত শুরু হলেও ঘটনার প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো প্রকাশিত হয়নি তদন্ত প্রতিবেদন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ধানশালিক ইউনিয়নের রিকশাচালকের দোকান থেকে জনতা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন কাজের সময় গত এপ্রিলের মাঝামাঝি কোনো ধরনের টেন্ডার বা নিলামের অনুমতি ছাড়াই কয়েক লাখ টাকার সরকারি গাছ কেটে নেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, এ কাজে নেতৃত্ব দেন ধানশালিক ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউল হক জিয়া।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবেই গাছ কাটা হচ্ছে। পরে জানা যায়, কোনো অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি জিয়াউল হক জিয়া প্রভাবশালী হওয়ায় কেউ প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পায়না।

অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগ বা প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই জিয়াউল হক জিয়া নিজস্ব লোকজন এবং তার ভাগিনা ইয়াছিনকে দিয়ে প্রকাশ্যে গাছগুলো কাটান। এমনকি সংশ্লিষ্ট কিছু কর্মকর্তাকে অনৈতিক সুবিধা দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

স্থানীয়রা আরো জানান- ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পুদম পুষ্প চাকমা সরেজমিন তদন্তের নির্দেশ দেন এবং বন বিভাগ ও এলজিইডিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরপর উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্ত করেন। তদন্তের সময় স্থানীয় লোকজন জিয়াউল হক জিয়া ও তার বাগিনা ইয়াছিনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে অবগত করেন। কিন্তু জিয়াউল হক জিয়া স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের কাছের লোক হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এগোচ্ছে না প্রশাসন।

উপজেলা প্রকৌশলী ইসলাম হোসেন জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের মাধ্যমে ইয়াছিন নামে একজনকে জড়িত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে মূল অভিযুক্ত জিয়াউল হক জিয়ার সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করতে আরও গভীর তদন্ত প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশে রাজনৈতিক কোনো চাপ রয়েছে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি জানান, উপজেলা পরিষদের এক সভায় ইউএনও স্যারের সামনে এমপি মহোদয় বলেছেন জিয়াউল হক জিয়া উনার দলের লোক, বিষয়টি দেখতে হবে।

এদিকে, দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়ায় জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : অসহায় পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন, তুলে দিল স্বপ্নের ঘর

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন