পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার সাইদখালী-ঢেপসাবুনিয়া গ্রামে পুলিশের বিরুদ্ধে হয়রানি, ভয়ভীতি প্রদর্শন, অনুমতি ছাড়া বাড়িতে প্রবেশ, ঘরের তালা ভাঙা, ভাঙচুর এবং মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন এক ভুক্তভোগী পরিবার।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগী আসমা বেগমের নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। এ সময় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
লিখিত বক্তব্যে আসমা বেগম বলেন, প্রায় আট বছর আগে তার মা মারা যাওয়ার পর তার বাবা শাহেদ আলী মৃধা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর থেকে তিনি দ্বিতীয় স্ত্রীর বাবার বাড়িতে বসবাস করছেন। এ অবস্থায় তার এবং প্রবাসী ভাই মাসুদ মৃধার ঘরে থাকা আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামাল নিয়ে বিরোধের সৃষ্টি হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জিয়ানগর থানার এসআই ইসমাইল, এসআই শাহিন ও এএসআই মুরাদ সাদা পোশাকে পশ্চিম বালিপাড়া গ্রামের হবি শেখ ও শামসু শেখকে সঙ্গে নিয়ে তাদের বাড়িতে আসেন। কোনো আদালতের আদেশ বা আইনগত কাগজপত্র প্রদর্শন ছাড়াই তারা বাড়িতে প্রবেশ করেন। পরে তার প্রবাসী ভাইয়ের ঘরের তালা ভেঙে আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন মালামাল বের করে নিয়ে যাওয়া হয়।
আসমা বেগম আরও দাবি করেন, তিনি বাধা দিলে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা তাকে মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেন এবং অসদাচরণ করেন। একপর্যায়ে হবি শেখ তাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের বাইরে ফেলে দেন। এছাড়া তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন এবং তার বোনের স্বামীর রেখে যাওয়া ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী মাসুদ মৃধার স্ত্রী ফাহিমা বলেন, ঘটনার সময় তিনি বাবার বাড়িতে ছিলেন। পরে খবর পেয়ে এসে দেখেন, পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের ঘরের মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
এ সময় পরিবারের সদস্যরা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাহেদ আলী মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে জিয়ানগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহাব্বত খান বলেন, “শাহেদ আলী মৃধা অভিযোগ করেন, মেয়েদের বাধার কারণে তিনি নিজের মালামাল বাড়ি থেকে নিতে পারছেন না। ৯৯৯-এ কল পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ কেবল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে উপস্থিত ছিল। পুলিশের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।”
পড়ুন : কুরিয়ারে মাদকের চালান! নেত্রকোনায় স্বামী পলাতক, স্ত্রীসহ আটক ২


