বিজ্ঞাপন

সুনামগঞ্জে ভূমি বিরোধের জেরে বিজিবি সদস্যকে মামলায় জড়ানোর অভিযোগ, চিকিৎসা নথি নিয়েও প্রশ্ন

সুনামগঞ্জ জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার বাগমারা এলাকায় দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া একটি মামলাকে ঘিরে এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। মামলায় অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, পূর্বের একটি আঘাতের চিকিৎসা নথি ব্যবহার করে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং এতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে খাগড়াছড়িতে কর্মরত একজন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যকে জড়ানো হয়েছে। তবে অভিযোগকারী পক্ষ তাদের অভিযোগে অটল থেকে সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

‎স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়নর বাগমারা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল দুই পক্ষের মধ্যে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২০ জুন সংঘটিত একটি মারামারির ঘটনায় আহত হন একই এলাকার বাসিন্দা পেয়ারা বেগম। এ ঘটনায় তিনি ২৪ জুন বিশ্বম্ভরপুর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ সিআর মামলা নম্বর ১৯৩ দায়ের করেন। মামলায় ইকবাল হোসেন এবং কবির হোসেনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়।
‎তবে অভিযুক্ত পক্ষের দাবি, অভিযোগে বর্ণিত সময় ও স্থানে এমন কোনো মারামারি বা সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন জমিতে স্বাভাবিকভাবেই কাজ চলছিল এবং অভিযোগে উল্লেখিত ঘটনার মতো কিছু শ্রমিকরা প্রত্যক্ষ করেননি।

‎অভিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, কয়েকদিন আগে মাঠ থেকে গরু আনতে গিয়ে গরুর গুতোয় আহত হন পেয়ারা বেগম এবং তার ডান পায়ে আঘাত লাগে। পরবর্তীতে সেই আঘাতের চিকিৎসা নথি ব্যবহার করে নতুন করে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে দাবি তাদের। কাগজপত্র ও চিকিৎসা সংক্রান্ত নথি পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৬ সালের ২৭ এপ্রিল এবং ২২ জুন একই হাসপাতালে রেডিওলজি ও ইমেজিং বিভাগের দুটি পৃথক এক্স-রে রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। দুটি রিপোর্টে একই পায়ের আঘাতের বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে এসেছে এবং রিপোর্ট দুটিতে স্বাক্ষর করেছেন ভিন্ন দুই চিকিৎসক। তবে এটি দুটি পৃথক আঘাতের ঘটনা নাকি একই আঘাতের জন্য দুই দফা চিকিৎসা নেওয়া হয়েছে—সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে রাজি হননি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকরা। তাদের মতে, চূড়ান্ত মেডিকেল মূল্যায়নেই প্রকৃত বিষয় স্পষ্ট হবে।

‎এদিকে মামলার অন্যতম অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে খাগড়াছড়িতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)র সদস্য হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সুনামের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ব্যক্তিগত ও ভূমি বিরোধের জেরেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের। পরিবারের সদস্যরা জানান, মামলার কারণে ওই বিজিবি সদস্য পেশাগত ও সামাজিকভাবে ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তারা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।

‎অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে পেয়ারা বেগম বলেন, মারামারির ঘটনায় তিনি আহত হয়েছেন এবং তার পায়ে ভাঙা ধরনের জখম হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।
‎স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বাদাঘাট দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ-এর চেয়ারম্যান ছবাব মিয়া জানান, সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে পূর্বেও বিরোধ ছিল এবং স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
‎তিনি বলেন, অভিযোগকারী পক্ষের পরিবারের সদস্য তৌফিক পূর্বেই জমিটি ইকবাল হোসেনের কাছে বিক্রি করেছিলেন। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে বসে যার যার সম্পত্তি বুঝিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির চেষ্টা করা হয়। চেয়ারম্যান আরও বলেন, নতুন করে দায়ের হওয়া মামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।

‎এদিকে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ শাহিন মিয়া জানিয়েছেন, এ বিষয়ে থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে আদালতে মামলা দায়ের হওয়ায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বিষয়টি এগোবে। স্থানীয়দের মতে, তদন্ত, চিকিৎসা নথি, সাক্ষ্য-প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য যাচাইয়ের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে।
‎একদিকে অভিযোগকারী পক্ষের সুষ্ঠু বিচার দাবি, অন্যদিকে অভিযুক্ত পক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান—এমন পরিস্থিতিতে এখন সবার নজর তদন্ত ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের দিকে। তদন্তের মাধ্যমেই বেরিয়ে আসবে প্রকৃত ঘটনা এবং দীর্ঘদিনের ভূমি বিরোধেরও একটি স্থায়ী সমাধান হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন:চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে সড়ক দুর্ঘটনায় ভ্যান চালকের মৃত্যু

দেখুন:কঠিন জয়ের পর থামছে না আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বাঁধভাঙা উল্লাস 

ইমি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন