বিজ্ঞাপন

বাজেটের কার্যকর বাস্তবায়ন চায় সরকার

ছরের পর বছর দেশের প্রস্তাবিত বাজেটের পুরোটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। অধিকাংশ অর্থবছরেই বাজেট বাস্তবায়নের হার ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে। একই সঙ্গে উন্নয়ন ব্যয়ের বড় অংশ অর্থবছরের শেষদিকে তড়িঘড়ি করে ব্যয় হওয়ায় প্রকল্পের গুণগত মান, ব্যয়ের দক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এ বাস্তবতা থেকে বেরিয়ে এসে সময়মতো ও মানসম্মত বাজেট বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে সরকার।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রচলিত জুলাই-জুন অর্থবছরের পরিবর্তে জানুয়ারি-ডিসেম্বর অথবা এপ্রিল-মার্চ অর্থবছর চালুর সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে অর্থবিভাগকে একটি ধারণাপত্র (কনসেপ্ট পেপার) প্রস্তুতের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ছয় মাসের একটি বিশেষ বাজেট উপস্থাপনের মাধ্যমে নতুন অর্থবছর কার্যকর করার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে বাস্তবায়ন হয়েছে মূল বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সংশোধিত বাজেটের ৮৫ শতাংশ। ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে। গত এক দশকের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, প্রায় প্রতি বছরই বাজেট বাস্তবায়ন ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাজেট শতভাগ বাস্তবায়ন সব দেশের পক্ষেই কঠিন। তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে পরিকল্পনা প্রণয়ন, বরাদ্দ বণ্টন এবং প্রকল্প নির্বাচন প্রক্রিয়ায় দুর্বলতা থাকায় বাস্তবায়নের হার আরও কমে যাচ্ছে। জনসংখ্যা, আঞ্চলিক চাহিদা ও বাস্তব প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেট পরিকল্পনা না হওয়ায় বিভিন্ন খাতে বরাদ্দের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমানে অর্থবছর শুরু হয় ১ জুলাই, যখন দেশে বর্ষাকাল থাকে। জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও অনেক সময় বন্যার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ সময়মতো শুরু করা যায় না। ফলে অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বাস্তবায়ন হার ৪০ শতাংশেরও নিচে থাকে। পরে অর্থবছরের শেষ দিকে দ্রুত কাজ শেষ করার চাপ তৈরি হয়, যা প্রকল্পের মান ও ব্যয়ের দক্ষতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

সরকারের ধারণা, যদি জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর চালু করা যায়, তাহলে অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ পূর্ণগতিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। এতে প্রকল্প বাস্তবায়নের গতি বাড়বে, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে এবং সরকারি অর্থের অপচয় কমবে।

বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনও অর্থবছর পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন। তার মতে, বাংলাদেশের আবহাওয়া বিবেচনায় জানুয়ারি-ডিসেম্বর অর্থবছর অধিক উপযোগী। এতে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে এবং সরকারি অর্থের আরও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী প্রয়াত আবুল মাল আবদুল মুহিতও অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সে সময় বিষয়টি নিয়ে বিস্তর আলোচনা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অর্থবছরের সময়কালও ভিন্ন। ভারতে অর্থবছর এপ্রিল থেকে মার্চ পর্যন্ত, আর শ্রীলঙ্কা ও ভিয়েতনামে ক্যালেন্ডার বর্ষ অনুযায়ী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্থবছর পরিচালিত হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানে এখনও জুলাই-জুন অর্থবছর অনুসরণ করা হচ্ছে। বর্তমান বাস্তবতায় বাজেট বাস্তবায়নের গতি ও গুণগত মান বাড়াতে অর্থবছর পরিবর্তনের উদ্যোগ কতটা কার্যকর হয়, এখন সেদিকেই নজর সংশ্লিষ্টদের।

পড়ুন:মোজতবা খামেনি তার বাবার জানাজায় যোগ দিলে ইসরাইল গুপ্তহত্যা করতে পারে

দেখুন:ইংল্যান্ডের ৩২০ বছর পুরোনো চা এখন মালিবাগে 

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন