মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ায় আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে এখন সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্যই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য বেড়েছে। খবর: রয়টার্স।
মঙ্গলবার (জিএমটি ০০:৪৬) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ২৮ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ৩৯ শতাংশ বেড়ে ৭২ দশমিক ২৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৯ সেন্ট বা শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৬৮ দশমিক ৮৪ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগের দিন দাম ইরান সংঘাত শুরুর আগের পর্যায়ের কাছাকাছি নেমে এসেছিল।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারারের ভাষ্য, তেলের সরবরাহ পুনরুদ্ধার হওয়ায় তাৎক্ষণিক ঝুঁকি নিয়ে বাজারের উদ্বেগ কিছুটা কমেছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ক ঘিরে অনিশ্চয়তা থাকায় বর্তমান যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে বিনিয়োগকারীরা এখনও সতর্ক রয়েছেন।
এদিকে সোমবার এক বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন হয় ইরানের সঙ্গে একটি সমঝোতায় পৌঁছাবে, নয়তো ‘কাজ শেষ করবে’। তার এই বক্তব্যকে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা এখন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি, বিশেষ করে হরমুজ প্রণালীর নৌপরিবহন পরিস্থিতি এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে তেল রপ্তানি স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, জুন মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত দৈনিক ৩৮ লাখ ব্যারেলের বেশি অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করেছে। এটি এপ্রিল ২০২০ সালের পর সর্বোচ্চ উৎপাদন এবং ইরান সংঘাত শুরুর আগের সময়ের তুলনায়ও বেশি।
টিম ওয়াটারারের মতে, এখন বাজারের মূল দৃষ্টি থাকবে চীনের তেলের চাহিদা পুনরুদ্ধারের দিকে। সরবরাহ বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাবের বড় অংশ ইতোমধ্যে দামে প্রতিফলিত হয়েছে। তাই আগামী দিনে প্রকৃত চাহিদা প্রত্যাশা অনুযায়ী বাড়ে কি না, তার ওপরই তেলের দামের গতিপথ অনেকটা নির্ভর করবে।
অন্যদিকে, রাশিয়াসহ তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস (ওপেক+) আগস্ট থেকে দৈনিক উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর আগে জুন ও জুলাই মাসেও একই ধরনের উৎপাদন বৃদ্ধি কার্যকর করা হয়েছিল।
এ ছাড়া সৌদি আরব এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য আগস্ট মাসে আরব লাইট ক্রুডের সরকারি বিক্রয়মূল্য (ওএসপি) ওমান/দুবাইয়ের গড় মূল্যের তুলনায় ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ৫০ ডলার কমিয়েছে। আগের মাসের তুলনায় এই মূল্যছাড় ১ দশমিক ১০ ডলার বেশি, যা দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ মূল্যহ্রাস হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পড়ুন: পর্তুগালকে কাঁদিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে স্পেন
আর/


