যুক্তরাষ্ট্রের ওহিও থেকে ম্যাসাচুসেটস এবং ভার্জিনিয়া পর্যন্ত বিশাল অঞ্চলে প্রায় ছয় কোটি মানুষ তীব্র আকস্মিক বন্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন। সাম্প্রতিক দাবদাহের পর এই অঞ্চলগুলোতে এখন ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিউইয়র্ক সিটি এবং লং আইল্যান্ড এই আকস্মিক বন্যার ঝুঁকির কেন্দ্রে রয়েছে। সেখানে চার মাত্রার সতর্কতার মধ্যে তিন নম্বর স্তরের বন্যার ঝুঁকি ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া সাউদার্ন কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড এবং ম্যাসাচুসেটসের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলেও ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলের কিছু এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় তিন ইঞ্চি পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। কোনো কোনো জায়গায় মোট বৃষ্টির পরিমাণ আট ইঞ্চি পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
পুরো নিউইয়র্ক সিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় বন্যা সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। নিউইয়র্কের ব্রুকলিন এবং কুইন্সে এরই মধ্যে এক থেকে দুই ইঞ্চি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সেখানে আকস্মিক বন্যার জরুরি সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
ফিলাডেলফিয়া এলাকার ২৫ লাখেরও বেশি মানুষের জন্য একই ধরনের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। উত্তর ফিলাডেলফিয়ার লেমন হিল পার্কসহ বেশ কিছু এলাকায় এরই মধ্যে বন্যা দেখা দিয়েছে।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি এক ভিডিওবার্তায় নগরবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে বেজমেন্ট বা ভূগর্ভস্থ কক্ষে থাকা বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার অনুরোধ করেছেন তিনি।
নিউ জার্সির ওশেন টাউনশিপে তীব্র ঝড়ের কারণে একটি শপিং মলের ছাদ আংশিক ধসে পড়েছে। ঘটনার সময় মলের ভেতরে ২৭ জন মানুষ ছিলেন।
মনমাউথ কাউন্টির শেরিফ মাইকেল সোরেন্টিনো জানান, এ ঘটনায় দুজন সামান্য আটকে পড়লেও পরে নিরাপদে বের হতে পেরেছেন। তবে সৌভাগ্যবশত কেউ আহত হননি। তীব্র আবহাওয়া কত দ্রুত বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে, এটি তারই প্রমাণ।
এ ছাড়া চরম আবহাওয়ার কারণে নিউইয়র্ক এবং নিউ জার্সির বিমানবন্দরগুলোতে ৭০০টিরও বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন বিমানবন্দরে সাময়িক বিমান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। ওয়াশিংটন এবং ফিলাডেলফিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরেও ফ্লাইটের সময়সূচিতে বিপর্যয় ঘটেছে।
ঝড়-বৃষ্টির আগে এই অঞ্চলে তীব্র দাবদাহ চলছিল। এর পর রোববার রাতে ওকলাহোমা থেকে কানেকটিকাট পর্যন্ত ঝড়ে প্রায় আট লাখ গ্রাহকের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। নিউ জার্সির গভর্নর মিকি শেরিল জানিয়েছেন, ঘণ্টায় ৮০ মাইল বেগে বয়ে যাওয়া বাতাসে গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে। সেখানে এখনো বহু মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় আছেন।
এদিকে নিউ জার্সিতে তীব্র দাবদাহের কারণে অন্তত ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছেন কর্মকর্তারা। নিউ জার্সির স্বাস্থ্য কমিশনার ড. রেনার্ড ওয়াশিংটন জানিয়েছেন, মৃতদের অনেকের ঘরেই কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসি ছিল না। নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া এবং মিশিগানেও লাখো মানুষ এখনো বিদ্যুৎহীন অন্ধকারে রয়েছেন।
পড়ুন : এলএনজি সরবরাহ হ্রাস, কমতে পারে গ্যাসের চাপ
সা/


