মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নামে চালু হওয়া মিম কয়েনে বিনিয়োগ করে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন প্রায় ১০ লাখ বিনিয়োগকারী। একটি ক্রিপ্টো বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন মাসের শেষ পর্যন্ত এই কয়েনে বিনিয়োগকারীদের সম্মিলিত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৮০ কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯০৫টি বিনিয়োগকারী হিসাব বর্তমানে লোকসানে রয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি তিনজন বিনিয়োগকারীর মধ্যে প্রায় দুজনই ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
২০২৫ সালে প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার মাত্র তিন দিন আগে ট্রাম্প এই মিম কয়েন চালুর ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরপরই কয়েনটি ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণা এবং ট্রাম্পের জনপ্রিয়তাকে কেন্দ্র করে অল্প সময়ের মধ্যেই এর দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। অনেক বিনিয়োগকারী উচ্চ মুনাফার আশায় এতে অর্থ বিনিয়োগ করেন।
তবে সেই উচ্ছ্বাস দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। বর্তমানে কয়েনটির দাম নেমে এসেছে মাত্র ১ দশমিক ৬৯ মার্কিন ডলারে। অথচ একসময় এর সর্বোচ্চ মূল্য ছিল ৭৫ দশমিক ৩৫ ডলার। ফলে সর্বোচ্চ দামের তুলনায় কয়েনটির মূল্য প্রায় ৯৮ শতাংশ কমে গেছে। এতে উচ্চ দামে কেনা অধিকাংশ বিনিয়োগকারী বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
এটি ট্রাম্প পরিবারের ডিজিটাল মুদ্রা খাতে প্রথম উদ্যোগ নয়। এর আগে ট্রাম্প তার ছেলেদের নিয়ে আরেকটি ডিজিটাল মুদ্রাভিত্তিক প্রকল্প চালু করেছিলেন। সেই প্রকল্পের টোকেনের মূল্যও পরবর্তীতে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। তবে বিনিয়োগকারীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ট্রাম্পের ব্যক্তিগত আয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।
সম্প্রতি প্রকাশিত ট্রাম্পের আর্থিক বিবরণীতে দেখা গেছে, শুধু এই মিম কয়েন থেকেই তিনি ৬৩ কোটি ৬০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন। গত বছর ডিজিটাল মুদ্রা খাত থেকে তার মোট আয়ের প্রায় অর্ধেকই এসেছে এই কয়েনের মাধ্যমে। ফলে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের বিপরীতে ট্রাম্পের উল্লেখযোগ্য আর্থিক লাভের বিষয়টি নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানায়, তারা মিম কয়েনকে সিকিউরিটিজ হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করবে না। একই সঙ্গে কয়েকটি ডিজিটাল মুদ্রা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে চলমান মামলাও প্রত্যাহার করা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বের অন্যতম প্রধান ডিজিটাল মুদ্রা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ মিম কয়েনে বিনিয়োগের আগে বাজার পরিস্থিতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকা বিনিয়োগকারীদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পড়ুন:মধ্যপ্রাচ্যের দুই দেশে ইরানের হামলা
ইমি/


