যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাত টানা তৃতীয় দিনে গড়ালে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। এর মধ্য দিয়ে তেলের বাজার এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাল। একই সাথে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহ রুট ‘হরমুজ প্রণালী’ স্বাভাবিক হওয়ার আশাতেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগের দিন সোমবারই ব্রেন্ট ক্রুডের দাম এক লাফে ৯.৬ শতাংশ বেড়েছিল।
গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর তেলের দাম যুদ্ধ-পূর্ববর্তী স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে শুরু করেছিল। তবে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হিসাব করলে, বর্তমান ব্রেন্ট ক্রুডের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে।
সিঙ্গাপুরভিত্তিক ‘স্পার্টা কমোডিটিজ’-এর তেল বাজার বিশ্লেষক জুন গোহ আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের যে কৌশলগত জরুরি তেলের মজুদ (এসপিআর) ছিল, তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। দুই দেশের উত্তেজনা ও বাগাড়ম্বর না কমলে বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে নতুন করে সংঘাত ছড়ানোর আশঙ্কায় এই রুটে বাণিজ্যিক জাহাজের যাতায়াত নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। জাহাজ ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্ম ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্র থেকে রবিবারের মধ্যে এই প্রণালী দিয়ে মাত্র ৫৭টি ট্রানজিট রেকর্ড করা হয়েছে, যা তার আগের সপ্তাহের তুলনায় ৫০ শতাংশেরও কম। অথচ যুদ্ধ শুরুর আগে এই প্রণালী দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ১৩০টি জাহাজ চলাচল করত।
কানাডার টিডি সিকিউরিটিজের পণ্য কৌশল বিভাগের বৈশ্বিক প্রধান বার্ট মেলেক আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, বাস্তবে যদি জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট তৈরি হওয়ার ঝুঁকি দেখা যায়, তবে তেলের দাম ব্যারেলে ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
তবে মার্কিন প্রশাসন বাজারকে আশ্বস্ত করে দাবি করেছে, ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ ঘোষণার পরও সেটি খোলা রয়েছে। মার্কিন জ্বালানি দপ্তর জানিয়েছে, সোমবারও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় প্রণালীটি দিয়ে ৮৫ লাখ ব্যারেল তেল পরিবাহিত হয়েছে, যা স্বাভাবিক গড় প্রবাহের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
পড়ুন : বৃহস্পতিবার থেকে ফের ভারী বৃষ্টিপাতের আভাস
সা/


