একটি সাজানো সংসার, প্রিয়জনদের অপেক্ষা আর বেঁচে থাকার সব স্বপ্নকে মুহূর্তেই ধূলিসাৎ করে দিল দুর্বৃত্তদের ধারালো অস্ত্র। ঘরের ঠিক দুয়ারে এসে ওত পেতে থাকা ঘাতকেরা এভাবে কেড়ে নেবে একটি তাজা প্রাণ, তা হয়তো ভাবতেও পারেনি তার পরিবার।
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) মো. জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
গতকাল বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকার নিজ বাগানবাড়ির সামনে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। এ সময় তাকে বাঁচাতে গিয়ে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হয়েছেন হাদিস মিয়া নামে আরও এক বিএনপি কর্মী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রাতে মিঠামইন বাজার থেকে নিজের চিরচেনা পথ ধরে বাড়ি ফিরছিলেন জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। বাড়ির খুব কাছাকাছি, বেড়িবাঁধ এলাকার বাগানবাড়ির সামনে পৌঁছানো মাত্রই অন্ধকার থেকে হঠাৎ তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে ৩ থেকে ৪ জনের একদল অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্ত।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই ধারালো দেশীয় অস্ত্র দিয়ে জাহাঙ্গীরকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। চোখের সামনে প্রিয় নেতাকে বাঁচানোর আকুল চেষ্টা করেছিলেন সঙ্গে থাকা কর্মী হাদিস মিয়া। কিন্তু ঘাতকদের নির্মমতা ছাড় দেয়নি তাকেও। তাকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়। দুজনের আর্তচিৎকারে আশপাশের মানুষ ছুটে আসার আগেই অন্ধকারে মিলিয়ে যায় খুনিরা।
রক্তাক্ত ও নিথর দেহে দুজনকে মাটিতে লুটিয়ে থাকতে দেখে উদ্ধার করেন প্রতিবেশীরা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাদের কিশোরগঞ্জ শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আব্দুল আওয়াল এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের খবর নিশ্চিত করেছেন। জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর খবর হাসপাতালে পৌঁছানো মাত্রই সেখানে উপস্থিত স্বজন ও রাজনৈতিক সহকর্মীদের কান্নায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়।
মানুষ মানুষের কতটা শত্রু হলে এভাবে বাড়ির আঙিনায় এসে প্রাণ কেড়ে নিতে পারে? হাসপাতালের করিডোরে স্বজনদের এমন বুকফাটা আর্তনাদে ভারী হয়ে ওঠে চারপাশ।
তিনি তো বাড়ির দোরগোড়ায় চলে এসেছিলেন। আর কয়েকটা কদম বাড়ালেই নিজের ঘরে পৌঁছাতেন। কিন্তু ঘাতকেরা তাকে ঘরে ফিরতে দিল না। আমরা এই নির্মমতার বিচার চাই।” কাঁদতে কাঁদতে বলছিলেন নিহতের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী।
রাজনীতি কিংবা ব্যক্তিগত বৈরিতা কারণ যা-ই হোক না কেন, একজন সজ্জন ও পরিচিত মুখকে এভাবে হারিয়ে স্তব্ধ পুরো মিঠামইন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর থেকে উপজেলা জুড়ে চরম থমথমে পরিস্থিতি ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ মানুষের মনে বইছে চাপা ক্ষোভ আর আতঙ্ক। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং এই জঘন্য হত্যাকাণ্ডের পেছনে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে পুলিশ।
পড়ুন : মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার সোনারগাঁওয়ের কাবিলগঞ্জবাসী; হুমকির অভিযোগ


