ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় একটি যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেনের ধাক্কায় স্কুল বাস দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। এতে বাসে থাকা দুই শিক্ষার্থী ও বাসচালকসহ মোট চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছে আরও বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকাল সাতটার দিকে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর এলাকার কর্ণসুবর্ণ রেলক্রসিংয়ে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, একটি ট্রেন চলে যাওয়ার পরপরই রেলক্রসিংয়ের গেট খুলে দেওয়া হয়েছিল। গেট খোলার পর স্কুল বাসটি লাইন পার হতে গেলে বিপরীত দিক থেকে আসা নিমতিতা-কাটোয়াগামী আরেকটি যাত্রীবাহী লোকাল ট্রেন সেটিকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ট্রেনের ধাক্কায় বাসটি দুমড়েমুড়কে যায় এবং এর ধ্বংসাবশেষ রেললাইনের ওপর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে।
এক রেল কর্মকর্তা জানান, কাটোয়া থেকে প্রায় ৪৮ কিলোমিটার দূরে কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের কাছে স্কুলশিক্ষার্থী বহনকারী ওই বাসটি লাইন পার হওয়ার সময় লোকাল ট্রেনের মুখে পড়ে। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ ও রেল কর্মকর্তারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এই ঘটনার পর কর্ণসুবর্ণ রেলক্রসিংয়ের গেটম্যানের দায়িত্ব ও ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ প্রাথমিকভাবে অবহেলার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট গেটম্যান ও একজন সুপারভাইজারকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে ইতিমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এদিকে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লোকসভার সাবেক সংসদ সদস্য ও কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী এই মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির জন্য সরাসরি গেটম্যানের চরম অবহেলাকেই দায়ী করেছেন। আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
পড়ুন : এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশের পাশে ইইউ ও জি-৭৭
সা/


