বিজ্ঞাপন

চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগের কয়েক সপ্তাহ পর স্ত্রী-নবজাতক হারালেন ছাত্রদল নেতা

রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতালে চিকিৎসা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ তুলেছিলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ওহিদুর রহমান নিক্সন। সেই ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মাথায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে তার স্ত্রী ও সদ্যোজাত সন্তান মারা গেছেন বলে পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে। এই মৃত্যুতে পরিবার ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধাদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত ২৫ জুন প্রসূতি-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে নিক্সন তার অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে মিটফোর্ড হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পরও দ্রুত ভর্তি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাওয়া যায়নি বলে তাদের অভিযোগ। ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।

সেদিন রাতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসকদের কাছে রোগীর দ্রুত চিকিৎসার অনুরোধ জানান। মেহেদী হাসান হিমেল হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে তার দীর্ঘদিনের রাজনীতিক সহযোদ্ধা নিক্সনের (বন্ধুর) স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দায়িত্বরত চিকিৎসকদের কাছে অনুরোধ জানান কিন্তু চিকিৎসকরা কোনো সহযোগিতা করেননি। এ-সময় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতিরও সৃষ্টি হয়।

হিমেল বলেন, চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে আমি কয়েকবার অনুরোধ করি আমার সংগঠনের পরিচয় দিয়ে কিন্তু তারা সেটা না শুনে বাকবিতণ্ডা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে আমি চিকিৎসকদের সংঘবদ্ধভাবে মবের শিকার হন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

হিমেল অভিযোগ করে বলেন, ওই মানবিক ঘটনায় আমাকে নিয়ে মিডিয়ায় হলুদ সাংবাদিক করা হয়েছে। সংঘবদ্ধ হয়ে তারা সবাই ছাত্রদল ও আমাকে জড়িয়ে রাজনীতি ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করেছিল। সেদিন তাদের কাছে মানবিকতা বিপন্ন হয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বাস্তবায়ন ছিল প্রধান লক্ষ্য। সে সাংবাদিকগুলো আজ নিশ্চুপ। এ ঘটনা নিয়ে আর কোনো নিউজ করবে না। সেদিন আমরা শুধু একজন মায়ের জীবন বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আমরা সেই মা ও নবজাতককে হারালাম, এই ক্ষতিপূরণ কি কেউ এখন দিতে পারবে?

এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে নিক্সনের স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গভীর শোকের পরিবেশ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা শোক প্রকাশ করেন। অনেকেই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানাচ্ছেন।

পরিবারের সদস্যরা বলেন, স্ত্রীকে বাঁচানোর জন্য নিক্সন শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছুটে বেড়িয়েছেন। এক হাসপাতাল থেকে আরেক বিভাগ, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে জরুরি বিভাগের সামনে—সব জায়গায় তিনি আকুতি জানিয়েছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত স্ত্রী ও নবজাতক—দুজনকেই হারাতে হয়েছে তাকে। পরিবারের ভাষ্য, এই শোক ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।

তবে নিক্সনের স্ত্রী ও নবজাতকের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। একইভাবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের বিষয়েও কোনো তদন্তের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়নি।

নিক্সনের পরিবার ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা ঘটনাটির স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : জকসু সদস্য সাদমান সাম্য-এর উদ্যোগে স্ট্রেস ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন