ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় জর্ডানে মার্কিন সামরিক বাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও এক মার্কিন সেনা নিখোঁজ রয়েছেন। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শুক্রবার (১৭ জুলাই) জর্ডানে মার্কিন ও তার মিত্র বাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় গুরুতর আহত আরও চার মার্কিন সেনাকে জর্ডানের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হামলায় আরও বেশ কিছু সৈন্য ছোট-বড় আঘাত পেয়েছেন। নিহত সেনাদের পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে নিয়ম অনুযায়ী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হবে না বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই হামলার ঘটনার পর জর্ডান সীমান্ত ও মধ্যপ্রাচ্যে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক বার্তায় নিহত সেনাদের বীর আখ্যা দিয়ে বলেন, তাদের এই আত্মত্যাগ মার্কিন বাহিনীর সংকল্পকে আরও শক্তিশালী করবে।
অন্যদিকে, ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম দাবি করেছে, দেশটির ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) শনিবার (১৯ জুলাই) ভোরে জর্ডানের আল-আজরাক বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত দুটি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা রাতে আকাশসীমায় ধেয়ে আসা ১০টি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশেই ধ্বংস করেছে। এ ঘটনায় তাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এই সপ্তাহের নতুন হতাহতসহ এই চলমান সংঘাতে মোট মার্কিন নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে।
মার্কিন সেনাদের ওপর এই হামলার জবাবে শনিবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে ইরানের ওপর পাল্টা জোরালো বিমান হামলা চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সেন্টকম জানিয়েছে, এটি ছিল ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের টানা অষ্টম রাতের মতো বিমান হামলা। এই হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো হরমুজ প্রণালিতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ইরানের আক্রমণাত্মক সক্ষমতাকে গুঁড়িয়ে দেওয়া। একই সঙ্গে জর্ডানে মার্কিনিদের ওপর হামলা চালানো আইআরজিসিকে উপযুক্ত শাস্তি দেওয়া।
পড়ুন: তীব্র জ্বালানি সংকট রাশিয়ায়
আর/


