জনসেবার প্রতিশ্রুতি কাগজে যতটা উজ্জ্বল, বাস্তবের চিত্র ঠিক ততটাই বিবর্ণ। অনেকের কাছে জাতীয় গৃহায়ণ অফিস এখন ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তার আরেক নাম। দিনের পর দিন দপ্তর থেকে দপ্তরে ঘুরেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। একই সঙ্গে, সুস্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই গুরুত্বপূর্ণ ফাইল দীর্ঘদিন আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে।
জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ যা হওয়ার কথা ছিল মানুষের ভরসার জায়গা, সেখানেই ভেঙে চুরমার হচ্ছে সেবাপ্রার্থীদের জীবন ও স্বপ্ন। এ হাহাকারের নেই কোনো ভাষা, নেই সান্ত্বনা। আছে শুধু দীর্ঘশ্বাস। স্বপ্ন ছুঁতে না পারার অদৃশ্য গোলকধাঁধায় আটকে আছে অনেক সেবাপ্রার্থীর জীবন।
নাগরিক সেবা রাষ্ট্রের প্রতি জনগণের প্রাপ্য একটি অধিকার। জমির লিজ, নামজারি ও সেল পারমিশনসহ প্রশাসনিক বিভিন্ন কাজে প্রতিনিয়ত গৃহায়ণ অফিসে আসেন অসংখ্য মানুষ। কিন্তু অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হওয়া তো দূরের কথা, দিন পেরিয়ে মাস, এমনকি বছর ঘুরলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সেবা। এতে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি বাড়ছে ভোগান্তি।
মিরপুরের বাসিন্দা শামসেদ আরা সাথী। কাঙ্ক্ষিত সেবার আশায় দুই বছর ধরে ছুটে চলেছেন গৃহায়ণ অফিসে। নথি ঘেঁটে দেখা যায়, দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে রাষ্ট্রের নির্ধারিত চার ধরনের কর পরিশোধ ও হাজিরাসহ প্রয়োজনীয় সবকিছু শেষ করেছেন তিনি। তবে এখনো পাননি জমির সেল পারমিশন।
শুধু সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা নয়, দৃশ্যমান কোনো কারণ ছাড়াই ঊর্ধ্বতনের টেবিলে দিন পর দিন আটকে আছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল।
অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে নাগরিক টিভিকে দায়সারা জবাব দিয়েছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
দায়িত্বশীলদের স্বেচ্ছাচারিতায় অনিয়মের আখড়ায় পরিণত হয়েছে গৃহায়ণ অফিস—এমন অভিযোগ সেবাপ্রার্থীদের। এসব অনিয়ম রুখে দিতে কেউ কেউ দ্বারস্থ হয়েছেন আদালতের।
অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করলেও কার্যকর পদক্ষেপের বদলে আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে কর্তৃপক্ষ। সেবাপ্রার্থীদের প্রত্যাশা, অযথা হয়রানি বন্ধ করে নির্ধারিত সময়ে নিশ্চিত করা হবে কাঙ্ক্ষিত সেবা। স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আন্তরিকতায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসবে। সুদৃঢ় হবে রাষ্ট্র ও নাগরিকের পারস্পরিক সম্পর্ক।
পড়ুন: রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে পারেন শুক্রবার
আর/


