‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, আমার বাংলাদেশ’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের উদ্যোগে আইনশৃঙ্খলা, মাদক নির্মূল, চোরাচালান প্রতিরোধ ও আধুনিক পুলিশিং বিষয়ে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) বিকেলে সুনামগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান।
সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার এ বি এম জাকির হোসেন, পিপিএম। তিনি বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল রাখতে জেলা পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। মাদক উদ্ধার ও চোরাচালান প্রতিরোধে ধারাবাহিক সাফল্যের ফলে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশ সিলেট বিভাগের চার জেলার মধ্যে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশিং নিশ্চিত করতে সাইবার মনিটরিং ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাদকের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে শিক্ষার্থী, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত একটি স্বেচ্ছাসেবী তথ্য-সহায়তা নেটওয়ার্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
সভাপতির বক্তব্যে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘জনগণের আস্থা অর্জনের মাধ্যমেই জনবান্ধব পুলিশিং প্রতিষ্ঠা সম্ভব।’ তিনি বলেন, শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষা নয়, মাদক, সন্ত্রাস, চোরাচালান ও সাইবার অপরাধ দমনে পুলিশকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হতে হবে। নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে জনগণ ও পুলিশের পারস্পরিক সহযোগিতার বিকল্প নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নূরুল ইসলাম বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ছাড়া উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভব নয়।’ তিনি সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করে বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং ও সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ সমন্বিতভাবে জেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে। তিনি বলেন, ‘জনগণের সহযোগিতা ছাড়া টেকসই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।’ অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্প্রীতি বজায় রাখতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, সুধীজন ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক ও সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান দমন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়।
সভা শেষে উপস্থিত অতিথিরা বলেন, জনগণের অংশগ্রহণ, প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং এবং প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগই নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত সুনামগঞ্জ গড়ার অন্যতম ভিত্তি।
পড়ুন : কালিয়াকৈরে ব্যবসায়ীকে হত্যা করে নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ


