সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায় যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে জব্দ করা তিনটি ড্রেজার মেশিন মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনায় জনমনে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। জব্দকৃত ড্রেজারগুলো কী আইনি প্রক্রিয়ায় মালিকদের জিম্মায় দেওয়া হলো—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা চলছে।
জানা যায়, গত ২৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) বিকেল ৪টার দিকে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায় উপজেলা প্রশাসনের অভিযানে তিনটি ড্রেজার মেশিন জব্দ করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের সংরক্ষিত দুটি মুচলেকায় দেখা যায়, মো. জুয়েল মিয়া (২৮), পিতা- মো. রহমত আলী, গ্রাম- ভাদেরটেক মনিপুরী হাটি, ডাকঘর- রতারগাঁও, উপজেলা- বিশ্বম্ভরপুর, জেলা- সুনামগঞ্জ এবং মো. জাহের মিয়া (২৭), পিতা- হোসেন মিয়া, গ্রাম- কাইয়ারগাঁও, ডাকঘর- রতারগাঁও, উপজেলা- সুনামগঞ্জ সদর, জেলা- সুনামগঞ্জ লিখিতভাবে স্বীকার করেন যে, তারা নিজেদের মালিকানাধীন ড্রেজার মেশিন দিয়ে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার মিয়ারচর এলাকায় যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করেছেন।
মুচলেকায় তারা উল্লেখ করেন, তাদের কর্মকাণ্ড বালু ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪(গ) ধারায় অপরাধ। তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন এবং পুনরায় একই অপরাধ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা মেনে নেবেন বলেও লিখিতভাবে উল্লেখ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ্ সকিনা আক্তার বলেন, “মোবাইল কোর্ট পরিচালনার সময় অপরাধীরা উপস্থিত ছিলেন না। তাই মামলা রুজু করা সম্ভব হয়নি। পরে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের অভিযুক্তদের শনাক্ত করে তালিকা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা মুচলেকা দিয়েছেন, তাদের নজরদারিতে রাখার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।”
অন্যদিকে বিশ্বম্ভরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিন মিয়া বলেন, “উপজেলা প্রশাসন ড্রেজারগুলো আটক করেছে। এ বিষয়ে থানাকে কোনো লিখিত দায়িত্ব দেওয়া হয়নি। শুধু মৌখিকভাবে বললে হবে না। আমরা ড্রেজার আটক করিনি, আটক করেছে উপজেলা প্রশাসন।”
এদিকে উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ড্রেজার মেশিনগুলো থানা পুলিশের হেফাজতে রাখার জন্য বলা হলেও পুলিশ তা গ্রহণে অপারগতার কথা জানায়। পরে মুচলেকা গ্রহণের মাধ্যমে ড্রেজারগুলো মালিকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রশাসন সূত্র দাবি করেছে।
তবে আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, জব্দকৃত আলামত বা যন্ত্রপাতি মুক্ত করার ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় কোনো পৃথক লিখিত আদেশ, আদালতের নির্দেশ বা অন্য কোনো আইনগত ভিত্তিতে ড্রেজারগুলো ছেড়ে দেওয়া হয়েছে কি না—সেই প্রশ্নের স্পষ্ট ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। অনেকেই মনে করছেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের মতো পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ ও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ নিরুৎসাহিত হয়।
পড়ুন : নেত্রকোনায় যুবলীগের মিছিল, পুলিশ বলছে ছড়ানো ভিডিওটি পূর্বের


