ভারতের বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শাবানা আজমি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। চিকিৎসকদের পরীক্ষায় তার শরীরে সোয়াইন ফ্লু (এইচ১এন১ ইনফ্লুয়েঞ্জা) শনাক্ত হয়েছে। সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তাকে আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। অসুস্থতার কারণে আগে থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া একটি ছাত্র সংগঠনের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও অংশ নিতে পারেননি এই খ্যাতিমান অভিনেত্রী।
শাবানা আজমি নিজেই সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একটি ছাত্র সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সভায় উপস্থিত থাকার কথা ছিল তার। শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করার পরিকল্পনাও ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে হাসপাতালের তত্ত্বাবধানে থাকতে হয়েছে। চিকিৎসকরা তাকে বাড়ির বাইরে যেতে নিষেধ করেছেন এবং অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে কঠোরভাবে আইসোলেশনে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে শাবানা আজমি লেখেন, অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে না পারায় তিনি অত্যন্ত হতাশ। তবে শারীরিকভাবে উপস্থিত থাকতে না পারলেও শিক্ষার্থীদের প্রতি তার সমর্থন ও শুভকামনা সবসময় থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সবার কাছে দোয়া ও শুভকামনা কামনা করেছেন এই অভিনেত্রী।
শাবানা আজমির অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তার ভক্ত, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য মানুষ তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে বার্তা দিচ্ছেন। অনেকেই লিখেছেন, ভারতের চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম শক্তিশালী এই অভিনেত্রী যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও স্বাভাবিক কর্মকাণ্ডে ফিরতে পারেন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, সোয়াইন ফ্লু একটি ভাইরাসজনিত সংক্রামক রোগ। এটি মূলত ইনফ্লুয়েঞ্জা এ (এইচ১এন১) ভাইরাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এই ভাইরাস অন্যদের মধ্যে সংক্রমিত হতে পারে। এ রোগে সাধারণত জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তির মতো উপসর্গ দেখা যায়। গুরুতর ক্ষেত্রে নিউমোনিয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী বিশ্রাম নেওয়া, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন এবং সংক্রমণ এড়াতে আইসোলেশনে থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী অভিনেত্রী শাবানা আজমি শুধু অভিনয়ের জন্যই নন, বরং বিভিন্ন সামাজিক, মানবাধিকার ও নারী অধিকারবিষয়ক আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্যও সুপরিচিত। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি নানা জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে স্পষ্ট অবস্থান নিয়ে আসছেন। ছাত্র আন্দোলন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবাধিকারের প্রশ্নে তাকে বরাবরই সোচ্চার দেখা গেছে।
পড়ুন:মৃত্যুর ৪৭ বছর পরও দর্শকের হৃদয়ে উত্তম কুমার
ইমি/


