বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকট: সিএনজি পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে শত শত যানবাহন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় এক সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দেওয়ায় সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহনের চালক, যাত্রী ও স্টেশন মালিকরা।

বিজ্ঞাপন

গ্যাসের অভাবে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের কালিয়াকৈর অংশের অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে সরবরাহ বন্ধ, সীমিত হয়ে পড়েছে। ফলে ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে শত শত যানবাহনকে।

শনিবার (২৫ জুলাই) সকাল থেকে উপজেলার চন্দ্রা, মৌচাক, সফিপুর, সূত্রাপুর ও কালিয়াকৈর এলাকার বিভিন্ন সিএনজি ফিলিং স্টেশনে একই চিত্র দেখা যায়।

প্রায় ১৮ থেকে ২০টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে কয়েকটি সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মাত্র দুটি স্টেশনে সীমিত আকারে গ্যাস সরবরাহ হওয়ায় সেখানে ভোর থেকেই দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়।

অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে খালি গাড়ি নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে দৈনিক আয়ের উৎসও বন্ধ হয়ে পড়ছে।

কালিয়াকৈর চন্দ্রা কাজুলী সিএনজি পাম্পে গ্যাস নিতে আসা প্রাইভেটকার চালক রুবেল বলেন, “সকাল ৭টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। দুপুর হয়ে গেলেও সিরিয়াল পাইনি। খালি গাড়ি নিয়ে বাসায় ফিরতে হচ্ছে। এক সপ্তাহ ধরে একই অবস্থা। সংসার চালানো কঠিন হয়ে গেছে।”

মৌচাক এলাকার হাইএস গাড়ির চালক কামাল হোসেন বলেন, “সাধারণ সময়ে আমার গাড়িতে প্রায় ১ হাজার ১০০ টাকার গ্যাস নেওয়া যায়। আজ মাত্র ১০০ টাকার গ্যাস দিয়ে বলছে, আর গ্যাস নেই। এভাবে যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব নয়।”

সফিপুর এলাকার একটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জানান, গ্যাস সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় অধিকাংশ স্টেশন বন্ধ রাখতে হচ্ছে। যেসব স্টেশন চালু রয়েছে, সেখানে গ্যাসের চাপ এত কম যে ১০ মিনিটের কাজ করতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগছে।

এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে শিল্প খাতেও। কালিয়াকৈরের শত শত শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। পাশাপাশি গ্যাসচালিত পরিবহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে না পারায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে এসব যানবাহনের সংখ্যাও কমে গেছে।

এ বিষয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের গাজীপুর শাখার ব্যবস্থাপক জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি ত্রুটির কারণে সারাদেশেই গ্যাস সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে কাজ চলছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে পরিবহন খাতের পাশাপাশি শিল্প উৎপাদনেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

পড়ুন:কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় সাবেক পৌর মেয়র আনোয়ারুল কবির টুটুলের উপর সন্ত্রাসী হামলা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন