বিজ্ঞাপন

যুগোপযোগী ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে যা যা প্রয়োজন, সরকার তার সবই করছে : প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ

শিক্ষার্থীদের পাঠ, লেখা ও গণিতের ভিত্তিমূলক দক্ষতা নিশ্চিত করতে নতুন মূল্যায়ন কাঠামো প্রণয়ন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনতে সরকার অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, আধুনিক কারিকুলাম প্রণয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং কার্যকর মূল্যায়ন ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সাথে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি-বেসরকারি সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে নির্ধারিত নীতিমালা ও মানদণ্ড অনুসরণ করে কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ, কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন (কেপিআই) এবং শ্রেণিকক্ষভিত্তিক শিক্ষার মান নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, যুগোপযোগী ও দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। শিক্ষাকে জাতির সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে সরকার ইতিহাসের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়েছে। আগামী চার বছরে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্মকর্তাদের নিয়ে ধারাবাহিক কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি সিলেট বিভাগে ছয় ঘণ্টাব্যাপী এক কর্মশালায় নতুন মূল্যায়ন পদ্ধতি, শ্রেণিভিত্তিক শিক্ষার মান এবং প্রশাসনিক তদারকি বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১৭ আগস্টের মধ্যে দেশের সব বিভাগে এ ধরনের কর্মশালা সম্পন্ন করা হবে।

দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন মূল্যায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে কর্মকর্তা ও শিক্ষকদের কর্মদক্ষতা নিয়মিত পর্যালোচনা করা হবে। দায়িত্বে গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মাতৃভাষাভিত্তিক শিক্ষা বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে লিখিত প্রস্তাব বা তথ্য পাওয়া গেলে মন্ত্রণালয় তা পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার সরকারের অন্যতম অঙ্গীকার। পরিকল্পিত সংস্কার ও মানসম্মত শিক্ষাদানের মাধ্যমে আগামী পাঁচ বছরে দেশের শিক্ষাঙ্গনে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল আলিম, সিলেট বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ কে এম সাইফুল হাসান, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাখাওয়াত এরশেদ, জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়, গোয়াইনঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রতন কুমার অধিকারী এবং সহকারী পুলিশ সুপার সালমান নূর আলমসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী মোকামপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বল্লাপুঞ্জি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এছাড়াও গুচ্ছগ্রাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিয়ে, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, পাঠদান কার্যক্রম, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও সার্বিক শিক্ষার পরিবেশ ঘুরে দেখেন।

পড়ুন:দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন