বিজ্ঞাপন

‎সময়ের সঙ্গে বাড়েনি শরীর, ১৯ বছরেও শিশুর মতো রাজু

বয়সের হিসেবে তিনি একজন তরুণ। জাতীয় পরিচয়পত্র বলছে, তার বয়স প্রায় ১৯ বছর। এই বয়সে যেখানে একজন যুবক স্বপ্ন দেখে উচ্চশিক্ষা, কর্মজীবন কিংবা পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার, সেখানে রাজু আহমেদের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন—একদিন স্বাভাবিক মানুষের মতো দাঁড়িয়ে হাঁটতে পারবেন।

‎কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ি ইউনিয়নের প্রতাপ বেপারীপাড়া গ্রামের রাজুকে প্রথম দেখলে যে কেউ তাকে সাত-আট বছরের একটি শিশু ভেবে ভুল করবেন। অথচ সময় থেমে নেই, থেমে গেছে শুধু তার শরীরের বেড়ে ওঠা।

‎রাজুর বাবা মো. গোলাম মোস্তফা একটি উচ্চবিদ্যালয়ে পিয়ন হিসেবে চাকরি করেন। সামান্য বেতনে ছয় সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এর মধ্যেই ছেলের চিকিৎসার পেছনে যা ছিল, প্রায় সবই খরচ করেছেন। দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছুটেছেন, চিকিৎসকদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। কিন্তু রাজুর শরীরে আশার আলো জ্বলেনি।

‎মা মোছা. রঞ্জিনা বেগম বলেন, “ছোটবেলায় সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল। হঠাৎ করে ওর শরীরের বৃদ্ধি বন্ধ হয়ে যায়। অনেক ডাক্তার দেখিয়েছি, কিন্তু টাকার অভাবে এখন আর চিকিৎসা চালাতে পারছি না।”

‎শারীরিক জটিলতার কারণে রাজুর লেখাপড়াও থেমে যায় চতুর্থ শ্রেণিতে। শুধু উচ্চতাই নয়, তার হাতেও রয়েছে জটিলতা। ফলে নিজের অনেক কাজও অন্যের সহায়তা ছাড়া করতে পারেন না। সমবয়সীরা যখন কর্মজীবন বা উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন রাজুর প্রতিটি দিন কাটে চার দেয়ালের ভেতরে অসহায় অপেক্ষায়।

‎চিকিৎসকদের ধারণা, গ্রোথ হরমোনের ঘাটতি, জিনগত ত্রুটি অথবা অন্য কোনো হরমোনজনিত সমস্যার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে। তবে নিশ্চিত রোগ নির্ণয়ের জন্য প্রয়োজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা—যার ব্যয় বহন করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব।

‎বড় ভাইয়ের একটি ছোট দোকান থাকলেও সেই আয় দিয়ে সংসারের প্রয়োজনই ঠিকমতো মেটে না। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে পরিবারটি এখন ঋণের ভারে ন্যুব্জ।

‎সরকারি প্রতিবন্ধী পরিচয়পত্রধারী রাজুর পরিবার বলছে, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, মানবিক সংগঠন কিংবা সরকারি-বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের সহায়তা পেলে হয়তো তার চিকিৎসার নতুন পথ খুলে যেতে পারে।

‎সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ আমিনুল ইসলাম জানান,একটি পরিবারের দীর্ঘশ্বাস, এক তরুণের থেমে যাওয়া বেড়ে ওঠা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ—সব মিলিয়ে রাজুর গল্প শুধু একটি পরিবারের নয়, এটি আমাদের সমাজের মানবিক দায়িত্বেরও একটি নীরব প্রশ্ন।উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করলে হয়তো স্বাভাবিক হতে পারে তবে সেটা লাখে দু’একজন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সবার একটু সহযোগিতাই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি শিশুর হাসি

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন