বিজ্ঞাপন

গাজা চুক্তিতে সই হামাসের, অসামরিকীকরণে শুরু নতুন অধ্যায়

ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস গাজাকে অসামরিকীকরণ এবং অস্ত্র হস্তান্তরের শর্ত মেনে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে। কাতার, তুরস্ক ও মিসরের সরাসরি মধ্যস্থতায় দীর্ঘ আলোচনার পর এ সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়। চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল গাজার নিরস্ত্রীকরণ, যা শেষ পর্যন্ত মেনে নিয়েছে হামাস।

বিজ্ঞাপন

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস তাদের সব অস্ত্র ইন্টারন্যাশনাল স্টাবিলাইজেশন ফোর্স (আইএসএফ)-এর কাছে হস্তান্তর করবে। পাশাপাশি গাজার বিভিন্ন এলাকা পর্যায়ক্রমে সম্পূর্ণ অসামরিকীকরণ করা হবে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ সংস্থা সরেজমিনে এ প্রক্রিয়া যাচাই করার পর পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম শুরু হবে।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই চুক্তির আওতায় গঠিত আইএসএফ বাহিনী তিনটি প্রধান দায়িত্ব পালন করবে। প্রথমত, ফিলিস্তিনের জন্য নতুন ও দক্ষ একটি পুলিশ বাহিনী গঠনে প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দেবে। দ্বিতীয়ত, ইসরায়েলি সেনা গাজা থেকে প্রত্যাহার শুরু করলে বাহিনীটি ইসরায়েলি বাহিনী ও গাজার সাধারণ মানুষের মধ্যে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। তৃতীয়ত, হামাসের বিস্তৃত সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক নিষ্ক্রিয়করণসহ সার্বিক নিরস্ত্রীকরণ কার্যক্রম তদারকি করবে।

যুক্তরাষ্ট্র এবং ‘বোর্ড অব পিস’-এর দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মতে, এই উদ্যোগ গাজায় নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। তবে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে। তাদের ধারণা, গাজাকে পুরোপুরি অসামরিকীকরণ করতে ২০০ থেকে ৩০০ দিন পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে।

জানা গেছে, একজন মার্কিন জেনারেলের নেতৃত্বে প্রায় পাঁচ হাজার সদস্যের এই যৌথ বাহিনী পরিচালিত হবে। বাহিনী গঠনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে সৈন্য পাঠানোর সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিয়েছে।

এদিকে আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হামাসের প্রতিনিধি দলের জ্যেষ্ঠ সদস্য গাজী হামাদ বলেন, নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার এবং গাজার পুনর্গঠন কার্যক্রমের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করবে।

তিনি বলেন, নিরস্ত্রীকরণের মতো অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ইসরায়েলের কোনো ধরনের হস্তক্ষেপের সুযোগ থাকবে না। এ কাজ পরিচালনা করবে গঠিত জাতীয় কমিটি।

চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে গাজী হামাদ বলেন, আলোচনাগুলো ছিল অত্যন্ত কঠিন ও প্রতিকূল। তবুও ফিলিস্তিনিদের সর্বোত্তম স্বার্থ নিশ্চিত করতে হামাস আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার রক্ষায় সংগঠনটি তাদের জাতীয় লক্ষ্য থেকে কখনো সরে যায়নি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইসরায়েলকে সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী ইসরায়েল যদি তাদের প্রতিশ্রুতি ও দায়িত্ব পালন না করে, তাহলে হামাসও গাজা শান্তি চুক্তির কোনো শর্ত বা পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করবে না।

পড়ুন: বাংলাদেশকে আমিরাতের প্রেসিডেন্টের ধন্যবাদ, শিগগির ঢাকা সফরের আগ্রহ

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন