বিজ্ঞাপন

গাংনীতে প্রশাসনিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ হরিলুটের অভিযোগ

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি উন্নয়ন তহবিলের অর্থ আত্মসাৎ, ভুয়া বিল-ভাউচার ও মাস্টাররোল তৈরির মাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের একাংশের দাবি, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কর্মকর্তা এসব অভিযোগ অস্বীকার না করলেও অভিযোগকে স্বাভাবিক বলে মন্তব্য করেছেন।

বিজ্ঞাপন

অভিযোগ অনুযায়ী, এডিবি, রাজস্ব ও ১% বরাদ্দের বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয়ের যথাযথ হিসাব সংরক্ষণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট নথিপত্রে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও অভিযোগকারীদের দাবি। কয়েকজন ইউপি সদস্য অভিযোগ করেন, প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে ভুয়া বিল-ভাউচার ও মাস্টাররোল তৈরি করে সরকারি অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব কাজে প্রশাসনিক কর্মকর্তাকে সহযোগিতা করেছেন ইউনিয়ন পরিষদের একজন সদস্য ও চেয়ারম্যান,এমন অভিযোগও তুলেছেন তারা।

ইউপি সদস্যদের ভাষ্য, প্রতি মাসে ইউনিয়ন পরিষদে ১% বরাদ্দের আওতায় তিন লাখ টাকারও বেশি অর্থ আসে। কিন্তু সেই অর্থ কোন খাতে ব্যয় হয়, সে বিষয়ে অধিকাংশ সদস্যকে অবহিত করা হয় না। বরাদ্দের অর্থ ব্যয়ের কোনো স্বচ্ছ হিসাবও তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে দাবি করেন তারা।

সম্প্রতি ইউপি সদস্য হকসেদ আলীর নামে প্রায় ২ লাখ ১১ হাজার টাকার একটি মাস্টাররোল তৈরি করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ সামনে আসে।

অভিযোগকারীদের দাবি, ওই মাস্টাররোলটি ভুয়া এবং এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের চেষ্টা করা হয়েছে। একই ধরনের আরও একাধিক ঘটনার অভিযোগও তারা তুলেছেন। তাদের ভাষ্য, এভাবে চলতে থাকলে ইউনিয়নের প্রকৃত উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে এবং সাধারণ মানুষ সরকারি সেবা ও উন্নয়ন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে তেঁতুলবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মতিন বলেন, ইউপি সদস্যদের অভিযোগ থাকতেই পারে।তবে অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা তিনি দেননি।

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক রকিব হাসান বলেন, আব্দুল মতিন সাহেব লোক হিসেবে সুবিধাজনক নন। তিনি কাজের চেয়ে অর্থের পেছনে বেশি ঘোরেন। আমি দুই মাস দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি বুঝতে পেরেছি। তাঁর এই বক্তব্য অভিযোগকে আরও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে নিয়ে এসেছে।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মোঃ আনোয়ার হোসেন জানান, লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের একাংশ। তাদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সরকারি অর্থের জবাবদিহি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের সব উন্নয়ন প্রকল্প, বরাদ্দ ও ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।

পড়ুন : দেশে স্বর্ণের দামে বড় লাফ, ভরিতে বাড়ল ২২১৬ টাকা

সা/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন