“মাদকের বিরুদ্ধে শুধু আইনগত ব্যবস্থা নয়, গড়ে তুলতে হবে শক্তিশালী সামাজিক প্রতিরোধ। প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি তরুণ এবং প্রতিটি সচেতন নাগরিককে এই আন্দোলনের অংশ হতে হবে। নাগরিক সচেতনতা, সামাজিক ঐক্য ও মানুষের অংশগ্রহণই একটি এলাকার সবচেয়ে বড় শক্তি।”—এভাবেই নিকুঞ্জ টানপাড়াকে মাদকমুক্ত ও আদর্শ আবাসিক এলাকায় গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটির নব নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার।
রাজধানীর খিলক্ষেতের নিকুঞ্জ টানপাড়াকে নিরাপদ, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, মানবিক ও মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকায় পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে সোসাইটির নিজস্ব কার্যালয়ে নবগঠিত নির্বাহী কমিটির প্রথম বিশেষ সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনা, নাগরিক নিরাপত্তা, সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মাদকবিরোধী সামাজিক আন্দোলনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন সোসাইটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল। সভা পরিচালনা করেন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসাইন মৃধা।
সভায় বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক সৈকত সরকার, সহসভাপতি প্রিন্সিপাল মো. মিসবাহ উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু, কোষাধ্যক্ষ মতিউর রহমান স্বপন, ক্রীড়া সম্পাদক নুরুল আমিন মজুমদার (ঝিন্টু), দপ্তর সম্পাদক ডা. আতিকুর রহমান খান, প্রচার সম্পাদক আমির হোসেন, নির্বাহী সদস্য এমদাদুল হক সোহেল, জিসাদ ইকবাল, মাহফুজুর রহমান, জাহিদুল হক জুয়েল, মোস্তফা সিকদার, লিটু আহমেদ লিটন, ইঞ্জিনিয়ার আলতাফ হোসেন, তাসবির ইকবালসহ অন্য সদস্যরা।
সভায় সৈকত সরকার বলেন, নিকুঞ্জ টানপাড়া রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ আবাসিক এলাকা। আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, প্রধান সড়ক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার সংযোগস্থলে হওয়ায় এখানে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন নাগরিক চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এসব সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকাবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণও সমানভাবে জরুরি।
তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি অংশগ্রহণমূলক সমাজ গড়ে তুলতে চাই, যেখানে প্রতিটি মানুষ এলাকার উন্নয়নকে নিজের দায়িত্ব বলে মনে করবেন। নাগরিক সচেতনতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সামাজিক ঐক্যের মাধ্যমে নিকুঞ্জ টানপাড়াকে রাজধানীর অন্যতম আদর্শ আবাসিক এলাকায় পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য।”
মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে তিনি বলেন, “মাদক একটি ব্যক্তি নয়, একটি পরিবার, একটি প্রজন্ম এবং পুরো সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। তাই মাদক প্রতিরোধে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। তরুণদের খেলাধুলা, শিক্ষা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও সৃজনশীল সামাজিক উদ্যোগের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে পারলে মাদকের বিস্তার অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। প্রতিরোধই মাদক নির্মূলে সবচেয়ে কার্যকর পথ।”
সভাপতির বক্তব্যে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদ ইকবাল বলেন, নিকুঞ্জ টানপাড়াকে শুধু একটি সুন্দর আবাসিক এলাকা নয়, নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ, পরিচ্ছন্ন ও মানবিক একটি মডেল জনপদ হিসেবে গড়ে তোলাই সোসাইটির দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, প্রশাসনের সহযোগিতা এবং এলাকাবাসীর ঐক্যবদ্ধ সমর্থনের ফলে নিকুঞ্জ টানপাড়া থেকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা কার্যত বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। গত প্রায় ১৫ মাস ধরে এ উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হওয়ায় যানজট কমেছে, দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পেয়েছে এবং পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হয়েছে।
জাহিদ ইকবাল বলেন, “ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত এলাকার সাফল্যের পর এবার আমাদের লক্ষ্য নিকুঞ্জ টানপাড়াকে মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। প্রশাসনের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে এই আন্দোলনের অংশ হতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর আবাসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে চাই।”
তিনি জানান, খুব শিগগিরই মাদকবিরোধী গণসচেতনতামূলক প্রচারণা, উঠান বৈঠক, তরুণদের নিয়ে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, অভিভাবক সমাবেশ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
সাংগঠনিক সম্পাদক এ. এম. আইয়ুব পাপ্পু বলেন, একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি পদ-পদবীতে নয়; জনগণের আস্থা, ঐক্য এবং ধারাবাহিক জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে। সেই বিশ্বাস থেকেই নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এলাকার মানুষের পাশে থাকবে।
১৯৯৭ সালে প্রতিষ্ঠিত নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে সামাজিক উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশামুক্ত এলাকা প্রতিষ্ঠা, জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বিত উদ্যোগ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা অভিযান এবং বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সংগঠনটির ভূমিকা এলাকাবাসীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
সভায় উপস্থিত সদস্যরা আশা প্রকাশ করেন, নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে নিকুঞ্জ টানপাড়া কল্যাণ সোসাইটি আগামী দিনেও একই নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। বিশেষ করে মাদকমুক্ত, নিরাপদ ও আধুনিক নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার সভা থেকে উচ্চারিত হয়েছে, তা বাস্তবায়িত হলে এটি রাজধানীর আবাসিক এলাকাগুলোর জন্য একটি অনুসরণযোগ্য সামাজিক উন্নয়ন মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে।
পড়ুন : মডেল নিকুঞ্জ টানপাড়া গড়ার অঙ্গীকার, এবার লক্ষ্য মাদকমুক্ত আবাসিক এলাকা


