উত্তর আফ্রিকায় স্পেনের স্বায়ত্তশাসিত ছিটমহল সেউতায় গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৫০ হাজারের বেশি অভিবাসী প্রবেশ করেছিলেন, যা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, তারা অভিবাসীদের এই নজিরবিহীন ঢল প্রতিহত করেছে এবং স্থল ও সমুদ্রপথে সীমান্ত পার হওয়া হাজার হাজার মানুষ ইতোমধ্যে স্বেচ্ছায় ফিরে গেছে।
এদিকে স্পেনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০ হাজার মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করেছে। তবে তাদের মধ্য থেকে প্রায় ২৫ হাজার মানুষ ইতোমধ্যে ফিরে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সেউতার স্থানীয় সরকার প্রধান হুয়ান হেসুস ভিভাস জানান, প্রায় ৬০ হাজার মানুষ সীমান্তে জোরপূর্বক প্রবেশের চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে স্প্যানিশ কর্তৃপক্ষ পানিতে ১৯টি মরদেহ খুঁজে পাওয়ার কথা জানিয়েছিল।
সীমান্তে বিপুলসংখ্যক মানুষের আকস্মিক অনুপ্রবেশ ইউরোপে নতুন রাজনৈতিক বিভাজন তৈরি করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগী দেশগুলোর নেতারা স্পেনকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে মহাদেশটির ডানপন্থী দলগুলো এ পরিস্থিতির জন্য স্পেনের তুলনামূলক শিথিল অভিবাসন নীতিকে দায়ী করেছে। চলতি বছর লাখ লাখ অননুমোদিত অভিবাসীকে সাধারণ ক্ষমা দিয়ে তাদের চক্ষুশূল হয়েছে স্পেন।
ছিটমহলের সীমান্তে রয়টার্সের প্রতিনিধিরা দেখতে পান, দাঙ্গা সরঞ্জামে সজ্জিত মরক্কোর পুলিশ বেড়ার কাছে সমবেত লোকজনকে ছত্রভঙ্গ করতে টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করছে। ভিড় সামলাতে জলকামানবাহী ট্রাক মোতায়েন করা হয়েছে। সংঘর্ষে পুড়ে যাওয়া একটি বাস ও অন্তত সাতটি গাড়ির ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে।
মরক্কোর তানজিয়ার থেকে স্পেনে প্রবেশ করা এক ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমি কেন এসেছিলাম তা নিজেও জানি না এবং এখন আমি ফেরত যাচ্ছি। সঙ্গে কিছু টাকা নিয়ে আসলেও গতকাল দুপুরের পর থেকে আমি কিছুই খাইনি… আমরা যা করছি তা ঠিকও নয়। আর এতে কোনও আনন্দও নেই।’
পড়ুন : মরক্কো থেকে সাগরের সীমানা পেরিয়ে স্পেনে ঢুকলো ৫০ হাজার মানুষ
সা/


