চট্টগ্রামের সরকারি হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজের খেলার মাঠ সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্পে ‘রডের বদলে বাঁশ’ ব্যবহারের অভিযোগকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুমুল আলোচনা তৈরি হওয়ার পর শনিবার সকালে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে পুরো নির্মাণাধীন এলাকা ঘুরে দেখার পর তিনি দাবি করেন, অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি; বরং এটি পরিকল্পিতভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের মেয়র বলেন, কোনো উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অভিযোগ উঠলে সেটির সত্যতা যাচাই করাই দায়িত্বশীলতার অংশ। সে কারণেই অভিযোগকারীকে সঙ্গে নিয়ে প্রকল্পের প্রতিটি অংশ পরিদর্শন করা হয়েছে। কিন্তু রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার কিংবা নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগের বাস্তবতা পাওয়া যায়নি।
তিনি জানান, প্রায় ৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নিজস্ব অর্থায়নে নয়; বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রকল্পের নকশা, ঠিকাদার নির্বাচন, কারিগরি তদারকি ও মান নিয়ন্ত্রণ—সবকিছুই বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে এ প্রকল্পে সিটি করপোরেশনের আর্থিক বা ঠিকাদারি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ নেই।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “আমি এই কলেজের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি আন্তর্জাতিক মানের খেলার মাঠ গড়ে তুলতে ব্যক্তিগতভাবে উদ্যোগ নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতা নিশ্চিত করেছি। এখানে শুধু একটি মাঠ নয়, ফ্লাডলাইট, ওয়াকওয়ে, টয়লেট, ল্যান্ডস্কেপিং এবং শিশুদের জন্য পৃথক বিনোদন সুবিধাসহ একটি আধুনিক ক্রীড়া অবকাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে।”
তিনি অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী মহল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে। “রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ যদি কেউ প্রমাণ করতে পারেন, তাহলে ঠিকাদারের চুক্তি বাতিলসহ রাষ্ট্রের একটি টাকাও অপচয় হতে দেওয়া হবে না। কিন্তু মিথ্যা তথ্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা এবং একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়,”—বলেন তিনি।
মেয়র জানান, অভিযোগে নিরাপত্তারক্ষীর বক্তব্য উদ্ধৃত করা হলেও ঘটনাস্থলে ওই নিরাপত্তারক্ষী স্পষ্টভাবে জানান, তিনি এমন কোনো মন্তব্য করেননি। এতে অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা আরও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
এদিকে প্রকল্প বাস্তবায়নকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিও অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে তাদের অর্ধশতাধিক প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে। কেউ যদি রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দিতে পারেন, তাহলে নিজেদের অর্থায়নে পুরো ঢালাই নতুন করে করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এ সময় মেয়র নগর উন্নয়নের বৃহত্তর পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চট্টগ্রাম নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ৪১টি খেলার মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে ১১টি মাঠের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। অচিরেই জাম্বুরি খেলার মাঠ উদ্বোধন করা হবে এবং আরও কয়েকটি মাঠ নির্মাণে নতুন উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুতের কাজ চলছে।
তিনি আরও জানান, প্রকল্পের কাজ ও অভিযোগের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রোববার বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিনিধি দল মহসিন কলেজ মাঠ পরিদর্শন করবে। একই সঙ্গে নগরবাসীকে গুজব ও অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হয়ে তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে মতামত দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরিদর্শনকালে চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, প্রকল্পসংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন : চোখের সামনে গ্রাম গিলে খাচ্ছে ব্রহ্মপুত্র: ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা শত পরিবার


