জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। মাত্র দুই থেকে তিন দিনের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে প্রায় অর্ধশত বসতঘর, গুরুত্বপূর্ণ সড়কের অংশ এবং প্রায় অর্ধশত বিঘা ফসলি জমি। নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন ছড়িয়ে পড়ায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন নদের তীরের শত শত মানুষ।
সরেজমিনে দেখা যায়, কেউ জীবনের শেষ সম্বল গাছ কেটে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, কেউ আবার নিজের হাতে গড়া বসতঘর ভেঙে অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেকেই ঘরের দরজা-জানালা, টিন ও আসবাবপত্র খুলে নেওয়ার কাজে ব্যস্ত। চোখের সামনে বছরের পর বছর ধরে গড়ে ওঠা সংসার নদীতে বিলীন হতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন স্বজনেরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি ভাঙনের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে একটি পরিবারের ঠিকানা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলে যেকোনো মুহূর্তে এলাকার স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, পাকা সড়কসহ আরও অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যেতে পারে।
ভুক্তভোগী সোনা বেওয়া বলেন, “প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে ঘুমাতে যাই, আবার আতঙ্ক নিয়েই ঘুম থেকে উঠি। কখন যে আমাদের ঘরটাও নদীতে চলে যায়, সেই ভয় সব সময় তাড়া করে বেড়ায়।”
উপজেলা বিএনপির সদস্য সামিউল হক লাভলু বলেন, গত বছরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে এবার আরও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে লক্ষীপুরের মানুষ। ভাঙন রোধে এলাকাবাসী একাধিকবার মানববন্ধন ও বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করলেও স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
উপজেলা বিএনপির সহ প্রচার সম্পাদক ও স্থানীয় বাসিন্দা রসূল মাহমুদ বলেন, গত কয়েক বছরে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে এ এলাকার শত শত পরিবার ভূমিহীন ও গৃহহীন হয়েছে। চলতি বছরের ভাঙন সেই সংকটকে আরও তীব্র করেছে। দ্রুত জরুরি ভিত্তিতে নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে আরও বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নকিবুজ্জামান বলেন, ভাঙন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
নদীভাঙন শুধু জমি বা ঘরবাড়ি কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় মানুষের নিরাপত্তা, জীবিকা ও ভবিষ্যতের স্বপ্ন। লক্ষীপুরের মানুষের এখন একটাই দাবি—স্থায়ী নদীশাসনের মাধ্যমে ব্রহ্মপুত্রের ভাঙন থেকে তাদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হোক।
পড়ুন : চারঘাটে জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের গণমিছিল


