বিজ্ঞাপন

কালিয়াকৈরে তীব্র তাপদাহ ও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ ঘাটতি, বাড়ছে লোডশেডিং

তীব্র তাপদাহে বিদ্যুতের চাহিদা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়া জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়ায় গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজজেলায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও শিল্পকারখানাগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

সোমবার (৩ আগস্ট) ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কালিয়াকৈর জোনাল অফিস থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলমান তীব্র তাপদাহের কারণে বিদ্যুতের চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ কম বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যাচ্ছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না।

এতে আরও বলা হয়, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ভারসাম্য রক্ষায় গ্রিডের ফ্রিকোয়েন্সি কমে বা বেড়ে গেলে ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) প্রয়োজন অনুযায়ী সময়ে সময়ে আংশিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখে। এরই ধারাবাহিকতায় ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করা হচ্ছে।

ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কালিয়াকৈর জোনাল অফিসের ডিজিএম মিজানুর রহমান বলেন, “বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল। আমরা যতটুকু বিদ্যুৎ পাচ্ছি, তা সমন্বয় করে গ্রাহকদের মধ্যে সরবরাহ করছি। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ স্বাভাবিক হলেই লোডশেডিং কমে আসবে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।”

কালিয়াকৈর পৌর এলাকার বাসিন্দা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন  বলেন, “দিন-রাত কয়েকবার করে বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে খুব কষ্টে আছি। রাতেও ঠিকমতো ঘুমানো যাচ্ছে না।”

স্থানীয় এক ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, “ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। অনেক সময় ক্রেতারাও দোকানে থাকতে চান না।”

কালিয়াকৈরের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জিএম  ফারুক হোসেন বলেন, “লোডশেডিংয়ের কারণে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে অতিরিক্ত খরচ হচ্ছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে শিল্প উৎপাদনে আরও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।”

একজন অভিভাবক রোকনউজ্জামান  বলেন, “শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা ও রাতে ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সামনে পরীক্ষা থাকায় অভিভাবকরাও উদ্বিগ্ন।”

এদিকে, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনজীবন ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত বিদ্যুৎ ঘাটতি দূর না হলে শিল্প উৎপাদন, ক্ষুদ্র ব্যবসা, শিক্ষা কার্যক্রম  স্বাভাবিক জনজীবনে আরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

তবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর কালিয়াকৈর জোনাল অফিস।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : দিনাজপুরের হিলি স্থল বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন