জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবেলা এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ৩২ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং সাড়ে ৩ লাখ নতুন ‘সবুজ কর্মসংস্থান’ সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ সকালে রাজধানীর উত্তরায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী এই কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সবুজ বিপ্লবের অবদান স্মরণ করেন এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়া কর্তৃক জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানকে সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তরের ইতিহাস তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সভাপতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ঢাকা-১৮ আসনের সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ”আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার, স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করতেই হবে। কারণ তিনি দেশে প্রথম ঐতিহাসিক সবুজ বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন। খাল খনন কর্মসূচি এবং ব্যাপক বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে তিনি সাধারণ মানুষকে শিখিয়েছিলেন কীভাবে প্রকৃতিকে ভালোবাসতে হয় এবং কীভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা যায়।
তিনি আরো বলেন, সেই পথ ধরে পরবর্তীতে আমাদের সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের ১৩ই আগস্ট গাজীপুরের শালনায় নিজ হাতে চারা রোপণ করে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযানকে জনগণের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে দিয়েছিলেন। ১৯৯৪ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় বৃক্ষমেলার সূচনা ঘটে, যা আজ দেশের সবচেয়ে বড় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
পরিবেশ,বনও জলবায়ু মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী বলেন, এই মহান ঐতিহ্যকে সামনে রেখে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারের ঐতিহাসিক রূপরেখা অনুযায়ী গত ২৬শে জুন কক্সবাজারে এবং ৯ই জুলাই জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ২০২৬ ও মাসব্যাপী জাতীয় বৃক্ষমেলার শুভ উদ্বোধন করেন। বর্তমানে সরকার কেবল আশ্বাসে বিশ্বাসী নয়, আমরা কর্মে বিশ্বাসী। আমাদের লক্ষ্য আগামী ৫ বছরে সারাদেশে ২৫ কোটি গাছ টিকিয়ে রাখা। আর ২৫ কোটি গাছ টিকিয়ে রাখতে হলে প্রাকৃতিক ক্ষতি বিবেচনা করে আমাদের লক্ষ্যমাত্রা রাখতে হবে ৩২ কোটি গাছ লাগানো। একই সাথে ১০ হাজার নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরি করার মাধ্যমে প্রায় আড়াই লক্ষ নতুন কর্মসংস্থানসহ মোট সাড়ে তিন লক্ষ সবুজ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে আমরা কাজ শুরু করেছি। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ইতিমধ্যে জাতীয় বন নীতি ২০২৫, গণবৃক্ষ রোপণ আইন ২০২৬, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা আইন ২০২৬ এবং সামাজিক বনায়ন বিধিমালা ২০২৬ প্রণয়ন করা হয়েছে। প্রতিটি পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তরুণ সংগঠন যদি অন্তত একটি করে গাছ লাগিয়ে তার পরিচর্যা করে, তবে ২০৩০ সালের আগেই দেশের বৃক্ষ আচ্ছাদন ২৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জিত হবে, ইনশাল্লাহ।”
অনষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব হাজী মোস্তফা জামান।
পড়ুন : মহেশখালী থেকে জাতীয় গ্রিডে বাড়ল ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ


