জামালপুরের মেলান্দহে পাঁচ সন্তানের জননী আন্জুয়ারা বেগমের রহস্যজনক মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি আত্মহত্যা করেছেন, নাকি তাকে হত্যা করা হয়েছে—এ নিয়ে দেখা দিয়েছে ধূম্রজাল। এদিকে তার মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
নিহত আন্জুয়ারা বেগম মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের পূর্ব শ্যামপুর গ্রামের আমিনুল ইসলাম টিক্কার স্ত্রী।
রোববার দিবাগত রাতে মেলান্দহ থানা-পুলিশ নিহতের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায় বলে জানা গেছে।
মাদারগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “আন্জুয়ারাকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে—এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে মরদেহের সুরতহাল করা হয়। গলায় রশির দাগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে শ্বাসরোধে মৃত্যুর বিষয়টি ধারণা করা হচ্ছে। তবে এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন দিক থেকে তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় গোলাপ হোসেন, বিল্লাল ও বিউটি বেগমসহ কয়েকজন বলেন, মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে অন্য পক্ষের বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে বের করা উচিত এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া ঠিক নয়।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার দাবি, একটি গর্ভপাত-সংক্রান্ত মামলা থেকে রেহাই পেতে আন্জুয়ারার আত্মহত্যা করে মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তাদের দাবি। তবে তাদের এ দাবির কোনো স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে নিহতের স্বামীর বাড়িতে গিয়ে আমিনুল ইসলাম টিক্কার ভাই আবু বক্করের স্ত্রী লায়লি, তার ছেলে লাভলু মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে কথা হয়। তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাদের বংশের মৃত শাহাদাত আলীর ছেলে সেহান সেক ও আবাদ সেকের ছেলে চান মিয়াসহ কয়েকজনের সঙ্গে গর্ভপাত-সংক্রান্ত একটি মামলা নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। ওই মামলার তদন্তে ঘটনার দিন বিকেলে পুলিশও বাড়িতে এসেছিল বলে তারা দাবি করেন।
তাদের ভাষ্য, পুলিশ চলে যাওয়ার পরপরই বাড়িতে হৈচৈ শুরু হয়। পরে সেখানে গিয়ে তারা আন্জুয়ারাকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। তাকে সুস্থ করার চেষ্টা হিসেবে পানি ঢালা হলেও ততক্ষণে তিনি মারা যান। তার গলায় রশির দাগ দেখে তারা শ্বাসরোধে মৃত্যুর ধারণা করেন।
তবে তারা দাবি করেন, আমরা কাউকে সরাসরি আন্জুয়ারাকে হত্যা করতে দেখিনি। আমাদের ধারণা, বিরোধের জেরে সেহান সেক, চান মিয়াসহ তাদের পক্ষের লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন।
অন্যদিকে নিহতের মেয়ে পান্না ও আমেনা বলেন, তারা স্বামীর বাড়িতে ছিলেন। খবর পেয়ে বাড়িতে এসে মায়ের মৃত্যুর কথা জানতে পারেন। তাদের দাবি, আমাদের মা আত্মহত্যা করার মতো মানুষ ছিলেন না। তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।
এদিকে ঘটনাস্থলে আসা নয়ারাজা, আব্দুল আলিমসহ স্থানীয় কয়েকজন বলেন, আন্জুয়ারার মৃত্যু হত্যা নাকি আত্মহত্যা—তা তদন্ত ও ময়নাতদন্তের মাধ্যমে প্রশাসনই নির্ধারণ করবে। তবে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কোনো বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাট করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। একই সঙ্গে হামলা, ভাঙচুর বা লুটপাটের অভিযোগের বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

