বিজ্ঞাপন

রাজশাহীর বিভিন্ন উপজেলায় ফ্যামেলি কার্ড শুমারি জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে

সারাদেশের ন্যায় রাজশাহীর ৯টি উপজেলায় সম্পূর্ন অস্থায়ীভিত্তিক ফ্যামিলি কার্ড থানা তথ্য ভান্ডার তথ্য সংগ্রহ কাজে জনবল নিয়োগে অনিয়ম ও দূর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এই নিয়ে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় প্রতিবাদ মিছিলসহ স্মারকলিপি জমা দিয়েছে ভুক্তভোগীরা।

বিজ্ঞাপন

গত ২৫ ঁজুলাই তারিখে বাঘা উপজেলায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে নিয়োগ নিয়ে অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে রাজনৈতিক ব্যাক্তি ও অবেদনকারীরা। এই অনিয়মের সঙ্গে উপজেলা ইউএনও জড়িত আছে বলে তারা দাবি করে। পক্ষান্তরে ওই ইউএনও শাম্মী আক্তারকে বদলি করা হয়।

একইভাবে গোদাগাড়ী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী ও সুফারভাইজার নিয়োগে অনিয়ম হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। গোদাগাড়ী পৌর যুবদলের আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান বিপ্লব বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড ও ইমামদের বেতনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি হিসেবে ছিল। সরকার ফ্যামিলি কার্ডের কার্যক্রম হাতে নেওয়ায় প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে এর সুফল পৌঁছে দিতে সুষ্ঠু ও স্বচ্ছভাবে তথ্য সংগ্রহের দাবি জানান তিনি।

তিনি অভিযোগ করেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মী নিয়োগে প্রশাসনের একটি অংশে অনিয়ম ও ষড়যন্ত্র হচ্ছে। বিএনপির নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে অন্য রাজনৈতিক দলের লোকজনকে এ কাজে নিয়োগ দেওয়া হলে তা সরকারের কার্যক্রমকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফ্যামিলি কার্ডের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজে যোগ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। একই সঙ্গে নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

অপরদিকে একই অভিযোগ উঠেছে অন্যান্য উপজেলার প্রশাসনের বিরুদ্ধেও। তবে জেলার চারঘাট উপজেলার অভিযোগাটি ভিন্ন রকম। এখানে নিয়োগের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে পরিক্ষায় অংশ গ্রহনকারীরা। তারা (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সর্তে) অভিযোগ তুলে বলেন, বিএনপি শীর্ষ নেতাদের নিয়ন্ত্রনে ফলাফল ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজশাহী মহিলা কলেজের অর্নাস পড়–য়া এক শিক্ষার্থীকে মাদকাশক্ত বলে অভিযোগ তুলেছে উপজেলা সমাজসেবা অধীদপ্তর। এই বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর এবং তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, সত্যতার বিষয়ে সমাজসেবা অফিসার রাশেদুজ্জামান বলেন গোয়েন্দা তদন্ত রির্পোট তাকে মাদকশক্ত বলেছে। তবে সার্বিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছন ইউএনও জান্নাতুল ফেরদৌস। একই সূত্রে ফিল্ড সুপারভাইজার সাইদুজ্জামান জানান, এনএসআই রির্পোট তার বিরুদ্ধে, যার কারনে তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এই বিষয়ে গোয়েন্দা সংস্থা কিছুই জানেন না বলে তাদের দাবি।

উপজেলা সমাজে সেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, চারঘাট রাজশাহী তথ্য সংগ্রহকারী মোট আবেদন ৮৬৬, প্রথম ধাপে পরীক্ষার্থী ৫৬৫ জন, উত্তীর্ণ ৫৭ জন। ২য় ধাপে পরীক্ষার্থী ৩০১ উত্তীণ ৩৩ জন, মোট উত্তীর্ণ ৯০ জন। সুপারভাইজার মোট আবেদন ১৪০ জন প্রথম ধাপে উত্তীর্ণ ৬ জন, ২য় ধাপে ৩ জন, মোট উত্তীর্ণ ৯ জন। উর্ত্তীণদের বেশির ভাগ রাজনৈতিক তদবির ছিল বলে দাবি করেছেন ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পরিক্ষার্থীরা।

সার্বিক বিষয়ে চারঘাট উপজেলা ইউএনও (অতিরিক্ত দায়িত্ব বাঘা উপজেলা প্রশাসন) জান্নাতুল ফেরদৌস একাধিকবার ফোন করে পাওয়া যায়নি। চারঘাট-বাঘা এমপি আবু সাইদ চাঁদ এর একান্ত পিএস জালাল উদ্দিন বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার জনবল নিয়োগে এমপি’র কোন ধরনের তদবির ছিল না। তিনি স্বচ্ছতা রেখে নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

পড়ুন:সিলেটে সড়কে আবারও প্রাণহানী

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন