বিজ্ঞাপন

বন্দরে সরকারি খাল ও খাস জমি বেদখলের প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সংবাদ সম্মেলন

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে সরকারি খাল ও খাস জমি বেদখলের প্রতিবাদ এবং দীর্ঘদিনের জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা অবমুক্ত রাখার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে এলাকাবাসী।

বিজ্ঞাপন

রবিবার (৯ আগস্ট) উপজেলার কলাগাছিয়া ইউনিয়নের শুভকরদী এলাকায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকাবাসীর পক্ষে লিখিত বক্তব্য দেন মোহাম্মদ রাসেল। এ সময় তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার রুবি, স্থানীয় বাসিন্দা মো. সফিক ও ছানোয়ার মিয়াসহ এলাকাবাসী বক্তব্য রাখেন।

লিখিত বক্তব্যে মোহাম্মদ রাসেল জানান, কলাগাছিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শুভকরদী ও কলাগাছিয়া মৌজার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সরু খাল দীর্ঘদিন আগে এলাকাবাসী নিজেদের উদ্যোগে ভরাট করে রাস্তা হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। প্রায় ১৫ বছর ধরে শুভকরদী ও আশপাশের এলাকার ৩০০ থেকে ৩৫০ জন মানুষ প্রতিদিন ওই রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছেন।

রাসেলের অভিযোগ, সম্প্রতি একই এলাকার মোসাম্মৎ ইতি আক্তার ও মো. ইমতিয়াস ওই খাস জায়গা ও জনসাধারণের চলাচলের রাস্তার ওপর সেমিপাকা স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এতে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে তিনি এলাকাবাসীকে সঙ্গে নিয়ে নির্মাণকাজে আপত্তি জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা ও সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় আপত্তি জানানোর পর তাকে হয়রানি করতে ইতি আক্তার তার বিরুদ্ধে বন্দর থানায় নারী নির্যাতনের একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রাসেলের দাবি, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।

রাসেলের পক্ষে তার স্ত্রী ফারজানা আক্তার রুবি বলেন “আমি কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি দখল করতে চাই না। সরকারি খাল ও খাস জমি রক্ষা এবং দীর্ঘদিন ধরে এলাকাবাসী যে রাস্তা ব্যবহার করে আসছে, সেটি উন্মুক্ত রাখার দাবিতেই আপত্তি জানিয়েছি।”

তিনি আরও জানান, অভিযোগের পর বন্দর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সাক্ষীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় উপস্থিত সাক্ষীরা পুলিশকে জানান, রাস্তার ওপর নির্মাণকাজ বন্ধের দাবিতে আপত্তি জানানো ছাড়া কোনো নারী নির্যাতনের ঘটনা ঘটেনি। এ বিষয়ে সাক্ষীরা লিখিত বক্তব্য ও স্বাক্ষরও দিয়েছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়।

এদিকে গত ৩১ জুলাই বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মফিজুল ইসলাম এবং স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি কবির শাহসহ ১০ থেকে ১৫ জন গণ্যমান্য ব্যক্তি উদ্যোগ নেন। রাসেলের অভিযোগ, সালিশ বৈঠকে অভিযুক্ত পক্ষ উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে এবং তাকে মারধর ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। পরে এ ঘটনায় বন্দর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন রাসেল।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সরকারি খাস জমি ও খাল দখলের বিষয়ে এর আগেও বিভিন্নভাবে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সচেতন এলাকাবাসী গণস্বাক্ষর সংগ্রহ করে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও বন্দর থানাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে রাসেলের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রুবি আরো বলেন, সরকারি জায়গা ও মানুষের চলাচলের রাস্তা নিয়ে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার সুষ্ঠু সমাধান প্রয়োজন। তিনি বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে এলাকাবাসীর চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত রাখার দাবি জানান।

এ সময় স্থানীয় মো. সফিক ও ছানোয়ার মিয়াও বক্তব্য রাখেন। তারা সরকারি খাল ও খাস জমি রক্ষা, অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ বন্ধ এবং জনসাধারণের দীর্ঘদিনের চলাচলের রাস্তা উন্মুক্ত রাখার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, সরকারি সম্পত্তি রক্ষা ও জনসাধারণের চলাচলের অধিকার নিশ্চিত করাই তার মূল উদ্দেশ্য। একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে করা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং হয়রানি থেকে মুক্তি পেতে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

পড়ুন:সিলেটে সড়কে আবারও প্রাণহানী

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন