দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনায় জর্জরিত ছিল দেশের প্রাচীনতম সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর সততা ও দক্ষতার সাথে কারখানার কর্মপরিবেশ ফেরানোসহ উৎপাদনে গতি ফিরতে শুরু করেছিল। কিন্তু ভেতরের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীর অপতৎপরতা ও ষড়যন্ত্রের কারণে এখন চরম আশঙ্কার মুখে পড়েছে এই অগ্রযাত্রা।
কারখানা সূত্র ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, নতুন নেতৃত্বের অধীনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করায় কারখানার ভেতরের দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অবৈধ সুযোগ-সুবিধা বন্ধ হয়ে যায়। এতে মূলত কারখানার ভেতরের নিচের সারির কতিপয় অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। পূর্বে যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা পেতেন, সৎ ও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থার কারণে তাদের সেই সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নিজেদের অন্যায় স্বার্থ হাসিল করতে না পেরে ভেতরের এই দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটটিই একজোট হয়ে নানা কুচক্রান্ত শুরু করে।
বর্তমানে এই চক্রটির ক্রমাগত ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় তত্ত্বাবধায়ক (ডিএস)। যেকোনো মুহূর্তে তাঁর বদলি হয়ে যেতে পারে বলে তীব্র আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সচেতন মহল ও কারখানার একটি সূত্র।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা জানান, দীর্ঘদিন লুটপাট ও অনিয়মে ডুবে থাকা প্রতিষ্ঠানটি যখন নিয়মানুবর্তিতার মাধ্যমে আবার সচল ও লাভজনক হওয়ার পথে, ঠিক তখনই ভেতরের কুচক্রী মহলটি একে পুনরায় স্থবির করার পাঁয়তারা করছে। সৎ ও নিষ্ঠাবানদের সুরক্ষার পরিবর্তে যদি এমন ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করে বদলি করা হয়, তবে রেলওয়ের সংস্কার ও আধুনিকায়নের স্বপ্ন পুরোপুরি মুখ থুবড়ে পড়বে।
সৈয়দপুরবাসী ও সাধারণ মানুষের জোর দাবি— ব্যক্তিস্বার্থ ও ভেতরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের কাছে যেন রাষ্ট্রীয় সম্পদ সৈয়দপুর রেলওয়ে কারখানা জিম্মি না হয়ে পড়ে। অনতিবিলম্বে কারখানার ভেতরের এই চিহ্নিত ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়াই এখন সময়ের দাবি।
পড়ুন:সিলেটে সড়কে আবারও প্রাণহানী
ইমি/


