ভ্যাপসা গরমের মধ্যে বুধবার মধ্যরাতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হয়েছে। গ্যাস সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় রাজধানীর একাধিক এলাকায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ছিল। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসিন্দারা। তবে রাজধানীর কিছু এলাকায় রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক ছিল।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ইস্কাটন, শেওড়াপাড়া, মৌচাক, কারওয়ান বাজার, পান্থপথ, লালমাটিয়া ও মোহাম্মদপুরের বিভিন্ন এলাকায় দেড় থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।
বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আনিকা তাসনিম বলেন, ঢাকায় গভীর রাতে এত দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকার অভিজ্ঞতা তার নেই। বিদ্যুতের বিল আগের তুলনায় দ্বিগুণ এলেও মাঝরাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তিনি।
কাজীপাড়ার বাসিন্দা সাংবাদিক রাহাত আহমেদ জানান, গত তিন বছরের মধ্যে বুধবার রাতেই তারা সবচেয়ে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হয়েছেন। তীব্র গরম ও মশার উৎপাতের কারণে ভোগান্তির কথা জানিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ সরবরাহের এই অব্যবস্থাপনা দূর করার দাবি জানান তিনি।
চলমান গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন কমে যাওয়ায় সারা দেশে বিদ্যুৎ-বিভ্রাট বেড়েছে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন ধরে দেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং তিন হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়েছে। গত রোববার লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। সোমবার তা বেড়ে ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়। মঙ্গলবার ছিল ৩ হাজার ৪৬৫ মেগাওয়াট এবং বুধবার ৩ হাজার ৩৮২ মেগাওয়াট।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশে দৈনিক ৩৮০ কোটি ঘনফুট গ্যাসের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে ২০৩ কোটি ঘনফুট। সমুদ্রে বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকেও গ্যাস সরবরাহ কমে ১০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
এদিকে ধারাবাহিক লোডশেডিং নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে প্রতিবাদ জানিয়েছেন। বিশেষ করে দেশের গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে গ্রিড, উপকেন্দ্র ও অফিসগুলোতে নিরাপত্তা চেয়ে বুধবার পুলিশ প্রধানের কাছে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুৎ অ্যাসোসিয়েশন। পাশাপাশি গোপালগঞ্জ, নীলফামারীসহ বিভিন্ন জেলার বিদ্যুৎ অফিস থেকেও নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ও প্রশাসনের কাছে পৃথক আবেদন করা হয়েছে।
পড়ুন: ২৩ বছর পর ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহার করছে যুক্তরাষ্ট্র
আর/


