নেত্রকোনার দুর্গাপুরে চোরাচালান বিরোধী পৃথক দুটি বিশেষ অভিযান চালিয়ে আনুমানিক চার লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের ১৭০ পিস অবৈধ ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করেছে দুর্গাপুর থানা পুলিশ।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়ন এবং দুর্গাপুর পৌরসভার দুটি ভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিপুল পরিমাণ কম্বল জব্দ করা হয়।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ-এর নেতৃত্বে এবং পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. শাহীনুর ইসলাম তালুকদারসহ পুলিশের একটি বিশেষ দল অভিযানগুলো পরিচালনা করে।
পুলিশের প্রেস রিলিজ সূত্রে জানা যায়, মাদক ও চোরাচালান উদ্ধারে পুলিশের নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রবিবার দিবাগত রাত ১২টা ৪৫ মিনিটে প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের খুজিউড়া গ্রামের জনৈক শফিকুল ইসলামের পরিত্যক্ত একটি টিনশেড ঘরে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন রঙের ১৫০ পিস ভারতীয় কম্বল উদ্ধার করা হয়। ‘কিং সুপার’ ব্র্যান্ডের কম্বলগুলোর আনুমানিক বাজার মূল্য ধরা হয়েছে চার লাখ ৫০ হাজার টাকা।
পরবর্তীতে একই রাতে ২টা ২৫ মিনিটে দুর্গাপুর পৌরসভাধীন শিবগঞ্জ বাজারে দ্বিতীয় অভিযানটি চালায় পুলিশ। সেখানে জনৈক বাবুলের পরিত্যক্ত একটি বেকারির দোকানে তল্লাশি করে ‘ক্যাট সুপার’ ব্র্যান্ডের আরও ২০ পিস ভারতীয় তৈরি কম্বল উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৩০ হাজার টাকা।
পুলিশ জানিয়েছে, উভয় অভিযানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে উদ্ধারকৃত মালামালের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং বর্তমানে জব্দকৃত কম্বলগুলো থানা হেফাজতে রয়েছে।
এ বিষয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ জানান, “চোরাকারবারীরা অবৈধভাবে সীমান্ত পথে ভারত থেকে এসব কম্বল এনে বিক্রির উদ্দেশ্যে মজুত করেছিল। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপরাধীরা আগেই পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত এই কম্বলগুলোর প্রকৃত মালিকদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও তাদের শনাক্ত করতে পুলিশের তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।”
সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দুর্গাপুরে চোরাচালান রোধে পুলিশের এমন অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
পড়ুন : সুরিয়াবোতে পূর্ব শত্রুতার জেরে নারীসহ ৬ জনকে কুপিয়ে জখম


