নেত্রকোনায় নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় পাশের বাসার টিনের চালে ইটের টুকরা পড়াকে কেন্দ্র করে শ্রমিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জুয়েল মিয়া (২৮) নামে এক নির্মাণশ্রমিক গুরুতর আহত হয়ে নেত্রকোনা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহত জুয়েল সদর উপজেলার মেদনী ইউনিয়নের কয়রাটি গ্রামের সুরুজ আলীর ছেলে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) নেত্রকোনা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল খায়ের মামলা রেকর্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রধান আসামি পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এর আগে, গত শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নেত্রকোণা পৌরসভার মোক্তারপাড়া এলাকায় আঞ্জুমান স্কুলের বিপরীতে শহীদ ক্যাডেট কোচিং সেন্টারের গলিতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নেত্রকোনা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সহ-সভাপতি মধু মিয়া বাদী হয়ে নেত্রকোনা মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় নেত্রকোনা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক রাজীব মাষ্টারকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, রাজীব মাষ্টারের পাঁচতলা ভবনের তৃতীয় তলায় রাজমিস্ত্রির কাজ করছিলেন শ্রমিকরা। কাজের সময় অসাবধানতাবশত একটি ইটের টুকরা পাশের বাসার টিনের চালে পড়ে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রাজীব মাষ্টার তৃতীয় তলায় গিয়ে শ্রমিকদের গালিগালাজ করেন। পরে তিনি নিচে নেমে অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে ডেকে এনে শ্রমিকদের ওপর হামলা চালান। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় রাজীব মাষ্টার নির্মাণকাজে ব্যবহৃত কাটা রড দিয়ে শ্রমিক জুয়েল মিয়ার মাথার পেছনে আঘাত করেন। অন্য শ্রমিকরা তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায়।
নেত্রকোনা নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. মঞ্জু মিয়া ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, “নির্মাণকাজে ইট-বালু কখনো কখনো নিচে পড়তে পারে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজীব মাষ্টার যেভাবে রড দিয়ে শ্রমিকদের মারধর করেছেন, আমরা তার সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর কথা বলতে গেলে রাজীব মাষ্টার ও তার স্ত্রী তাদের অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাজীব মাষ্টারের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এদিকে নেত্রকোনা দত্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মজিবুর রহমান জানান, এটি স্কুলের বাইরের ব্যক্তিগত ঘটনা। রাজীব মাষ্টার স্কুল থেকে দুই দিনের ছুটি নিয়েছেন। ছুটি শেষে তিনি কর্মস্থলে না এলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পড়ুন : ক্লাসরুম না থাকায় শহীদ মিনারে চলে সরকারি স্কুলের পাঠদান


