বিজ্ঞাপন

দুই লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দের সড়ক কাটল কে? প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় রায়পুর ইউনিয়নে সরকারি বরাদ্দে উন্নয়ন করা এবং পাকাকরণের প্রক্রিয়ায় থাকা একটি সড়ক সম্পূর্ণ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এর ফলে ওই সড়ক ব্যবহারকারী কয়েকশ পরিবার চরম দুর্ভোগে পড়েছে। গত বৃহস্পতিবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দেড় বছর আগে গ্রামবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে ও স্বেচ্ছাশ্রমে রায়পুর জিপিএস (সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়) থেকে চুচিয়াবিল পর্যন্ত এই সড়কটি নির্মাণ করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ‘কাজের বিনিময়ে খাদ্য’ (কাবিখা) প্রকল্পের আওতায় দুই লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দে সড়কটির ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়। স্থানীয়দের দাবি, এই সড়কটির নির্দিষ্ট সরকারি আইডি নম্বর (আইডি- ৩৭২৪৭৫১১৭০) রয়েছে এবং বর্তমানে এটি পাকাকরণের প্রক্রিয়াও বেশ খানিকটা এগিয়ে ছিল।

রাস্তাটি কেটে ফেলার ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য বাবুল চৌধুরী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “২০২৪-২৫ অর্থবছরে কাবিখার মাধ্যমে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটির উন্নয়ন করা হয়েছিল। অথচ এতটা স্বেচ্ছাচারীভাবে রাস্তাটি কেটে ফেলা হয়েছে, স্থানীয় ইউপি সদস্য হিসেবে আমাকে পর্যন্ত বিষয়টি জানানো হয়নি। এতে এলাকাবাসীর যাতায়াতের দুর্ভোগ বহুগুণ বেড়েছে।”

মাসকা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রেজাউল হক সুমন বলেন, “প্রথমে স্বেচ্ছাশ্রমে এবং পরে সরকারি বরাদ্দে রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। বর্তমানে যথাযথ কর্তৃপক্ষ রাস্তাটি পাকাকরণের আশ্বাসও দিয়েছে। এমন অবস্থায় রাস্তাটি কেটে ফেলায় এলাকার বহু পরিবার ভোগান্তিতে পড়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

তবে সড়ক কেটে ফেলার অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত মো. শরীফ হাসান ভূঞা। নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জমির ওপর সাময়িক চলাচলের জন্য রাস্তাটি তৈরি করা হয়েছিল। পাশের সরকারি হালট একসময় ব্যক্তি দখলে থাকায় আমরা সাময়িকভাবে ওই পথ দিয়ে চলাচলের সুযোগ দিয়েছিলাম। সম্প্রতি সরকারি হালট উদ্ধার হওয়ায়, এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়েই দিনের বেলায় রাস্তাটি কাটা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, কাটা রাস্তাটির কোনো সরকারি আইডি নম্বর নেই এবং এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন জায়গা।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কেন্দুয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) স্বজল সরকার মুঠোফোনে জানান, “বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে খোঁজ নিয়ে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় ভুক্তভোগীদের জোরালো দাবি, সড়কটি যদি সত্যিই সরকারি প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন করা হয়ে থাকে, তবে এর বর্তমান অবস্থান, সরকারি আইডি নম্বর, প্রকল্পের বরাদ্দ এবং জমির প্রকৃত মালিকানা অবিলম্বে যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে যাতায়াতের এই সড়কটির পাকাকরণ কাজ যাতে কোনোভাবেই অনিশ্চয়তার মুখে না পড়ে, সে জন্য দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কলমাকান্দায় স্বেচ্ছাসেবক দলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন