বিজ্ঞাপন

জন্মের আগেই ওয়ারিশ সনদে নাম, সম্পত্তির অধিকার আদায়ে অসহায় পরিবার

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে নিজেকে স্ত্রী ও সন্তান দাবি করে নকল ওয়ারিশ সনদ তৈরির অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তাঁর সন্তানের বিরুদ্ধে। উপজেলার সাতবাড়িয়া ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সম্পত্তির প্রকৃত উত্তরাধিকার নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

জগুন বাহারের সন্তান মোঃ শাহজাহান বলেন , তার দাদা ও বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তি হাতিয়ে নিতেই কথিত জাল ওয়ারিশ সনদ ও দলিল তৈরি করা হয়েছে। ২০২৬ সালে ইস্যু করা একটি ওয়ারিশ সনদের তথ্যের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যেও অমিল রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি জানান, মোজাম্মেল হোসেনের জন্ম ১৯৮০ সালে। অথচ ১৯৭৮ সালে তৈরি একটি ওয়ারিশ সনদে তাঁর নাম রয়েছে। একই সঙ্গে সন্তান না হয়েও ওয়ারিশ হিসেবে নিজের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

আহমদ হোসেন চৌধুরীর মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া সম্পত্তির উত্তরাধিকার নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আহমদ হোসেন চৌধুরীর প্রথম তিন স্ত্রী মারা যাওয়ার পর তিনি জগুন বাহারকে বিয়ে করেন। ২০১৪ সালে জগুন বাহার নিজ বাড়িতে মারা যান। তাঁর ঘরে চার ছেলে ও তিন মেয়ে জন্ম নেয়। তাঁদের দাবি, তাঁরাই আহমদ হোসেন চৌধুরীর প্রকৃত উত্তরাধিকারী।

তবে কথিত জাল ওয়ারিশ সনদ ও সম্পত্তির দলিলের কারণে তাঁরা তাঁদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ চলায় পরিবারটির জীবনযাপনও কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানান তাঁরা।

এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। অভিযোগের তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)কে। অভিযোগকারীরা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত উত্তরাধিকার নির্ধারণ এবং তাঁদের সম্পত্তির অধিকার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে ২০২৬ সালে ইস্যু করা ওয়ারিশ সনদের সঙ্গে ইউনিয়ন পরিষদের রেজিস্ট্রার খাতার তথ্যের পার্থক্যকে আপাতত টাইপিংজনিত ভুল হিসেবে দেখছেন সাতবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

অন্যদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মোজাম্মেল হোসেন। তাঁর দাবি, লেখাপড়া ও চাকরির সুবিধার জন্য বয়স কমানো হয়েছিল। সম্পত্তির বিরোধকে কেন্দ্র করে তাঁর ভাইয়েরাই তাঁকে হয়রানি করতে এসব অভিযোগ করছেন।

এ বিষয়ে চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুর রহমান বলেন, বিষয়টি নিয়ে সিআইডির তদন্ত শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার কথা রয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মধ্যে এখন সিআইডির তদন্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন আহমদ হোসেন চৌধুরীর চতুর্থ স্ত্রী জগুন বাহারের সন্তানরা। তাঁদের দাবি, তদন্তের মাধ্যমে নথির প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসুক এবং দাদা ও বাবার রেখে যাওয়া সম্পত্তিতে প্রকৃত উত্তরাধিকারীদের অধিকার নিশ্চিত হোক।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : কলমাকান্দায় সড়ক দুর্ঘটনায় মাদ্রাসাছাত্রীর মৃত্যু, আহত শিশু

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন