নারায়ণগঞ্জের বন্দরে ইসলামি যুব আন্দোলনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান বুলবুলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত প্রধান আসামি ও সিফাত বাহিনীর প্রধান শেখ সিফাতসহ ১১ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারদের মধ্যে তিন নারীও রয়েছেন।
শুক্রবার ভোরে বন্দরের শাহী বাজার এলাকার পৃথক বাসায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে দেশীয় অস্ত্র ও ওয়াকিটকি উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— শেখ সিফাত, হোয়াইট জুম্মন, মাহাফুজ, রিয়াদ, সিয়াম, ইফরান, জিসান, মিনারা, নাসিমা, রুমা ও ইয়াসমিন।
শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, গণঅভ্যুত্থানের আন্দোলনে বুলবুল যোগ দেওয়ার কারণে গত ২৫ জুলাই তার ইজিবাইকের গ্যারেজে হামলা চালিয়ে লুটপাট করে সিফাত ও তার বাহিনীর সদস্যরা। এ ঘটনায় বুলবুল বাদী হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা তুলে নিতে সিফাত ও তার সহযোগীরা বুলবুলকে বিভিন্ন সময় হুমকি দিয়ে আসছিল বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশ সুপার জানান, বৃহস্পতিবার রাতে সাহলে নগর এলাকায় বুলবুল যাওয়ার পথে সিফাত ও তার সহযোগীরা তার গতিরোধ করে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ দেয়। এসময় তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির একপর্যায়ে সিফাত ও তার সহযোগীরা বুলবুলকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা আহত বুলবুলকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার শেখ সিফাতের বিরুদ্ধে বন্দর থানায় হত্যা ও ছিনতাইসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি বলেন, বুলবুল হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। গ্রেফতারদের জিজ্ঞাসাবাদসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পড়ুন : পদ্মানদীতে চ্যানেল চার্জ আদায়কে কেন্দ্র করে হামলার অভিযোগ, আহত ১১


