বাংলাদেশি আলোকচিত্রী ফরিদ আহাম্মদ রনির বহুল আলোচিত চিত্রগ্রন্থ ‘প্যারিসের ছবি’ (Images of Paris) আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও একটি উল্লেখযোগ্য অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্যারিসের সিটি ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দ -এর হাতে গ্রন্থটি তুলে দেওয়া হয়।
২৮ আগস্ট আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফরিদ আহাম্মদ রনির সঙ্গে ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। এ সময় প্যারিসকে কেন্দ্র করে নির্মিত তাঁর আলোকচিত্রভিত্তিক প্রকাশনার বিষয়বস্তু, নান্দনিকতা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক যোগাযোগে এ ধরনের সৃজনশীল কাজের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রী হিসেবে ফ্রান্সের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের কাছে নিজের কাজ তুলে ধরার এই সুযোগ তাঁর সৃজনশীল যাত্রায় বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
এর আগে প্যারিসের সাবেক মেয়র আন ইদালগো-র সঙ্গেও ফরিদ আহাম্মদ রনির সাক্ষাৎ হয়। সে সময় তিনি তাঁর ‘প্যারিসের ছবি’ গ্রন্থটি উপহার দেন এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পান। গত ৩০ জুন প্যারিসের বর্তমান মেয়র ইমানুয়েল গ্রেগোয়ার-এর সঙ্গেও তাঁর সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় হয়। সেখানে বইটির বিষয়বস্তু, আলোকচিত্রের নান্দনিকতা এবং বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগে এ ধরনের প্রকাশনার ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়। রনির কাজের প্রশংসা করে মেয়র ভবিষ্যতে তাঁকে বিশেষভাবে সম্মানিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও জানা গেছে।
ফরিদ আহাম্মদ রনির ‘প্যারিসের ছবি’ কেবল একটি ফটোবুক নয়। শিল্প, ইতিহাস, সাহিত্য ও নগরসংস্কৃতির সমন্বয়ে এটি প্যারিসকে দেখার একটি সৃজনশীল আলোকচিত্রভিত্তিক দলিল। বাংলা, ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত গ্রন্থটিতে প্যারিসের ঐতিহাসিক স্থাপত্য, শিল্প-ঐতিহ্য, নগরজীবনের বৈচিত্র্য এবং শহরটির স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক আবহ আলোকচিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়েছে। ছবির পাশাপাশি ইতিহাস ও সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ যুক্ত হওয়ায় পাঠকের সামনে প্যারিসের দৃশ্যমান সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর ঐতিহ্য, ইতিহাস ও আত্মপরিচয়ের একটি বিস্তৃত চিত্রও উন্মোচিত হয়।
এর আগেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের হাতে পৌঁছেছে ‘প্যারিসের ছবি’। ফ্রান্সের ঐতিহাসিক গ্রঁ পালে-এ অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক ChangeNOW Summit-এ ফরিদ আহাম্মদ রনি মোনাকোর যুবরাজ প্রিন্স আলবার্ট দ্বিতীয়, ফ্রান্সের সাবেক প্রধানমন্ত্রী লরাঁ ফাবিউস এবং জাতিসংঘের আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল মেলিসা ফ্লেমিং-এর হাতে বইটি তুলে দেন। এসব সাক্ষাতে তিনি গ্রন্থটির শিল্পগুণ ও সাংস্কৃতিক মূল্য তুলে ধরার পাশাপাশি সংস্কৃতির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও বোঝাপড়া তৈরিতে আলোকচিত্রের ভূমিকা তুলে ধরার সুযোগ পান।
ফরিদ আহাম্মদ রনি ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ-র কাছেও তাঁর গ্রন্থ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে পাওয়া আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া তাঁর দীর্ঘদিনের সৃজনশীল কাজের জন্য বিশেষ অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠে। একই গ্রন্থের মাধ্যমে ফ্রান্সের বর্তমান ও সাবেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব, নগর প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বদের কাছে একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর কাজ পৌঁছে যাওয়ার বিষয়টি প্রকল্পটির আন্তর্জাতিক পরিসরকেও তুলে ধরে।
দীর্ঘ গবেষণা, পরিকল্পনা ও নিরলস শ্রমের ফল ‘প্যারিসের ছবি’ প্রকল্প। এর বাস্তবায়নে ফ্রান্স ও বাংলাদেশের গবেষক, শিক্ষাবিদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি শুধু একটি শহরকেন্দ্রিক আলোকচিত্র সংকলন নয়। একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর চোখে বিশ্বের অন্যতম ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক নগরী প্যারিসকে তুলে ধরার কারণে গ্রন্থটি বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক যোগাযোগের একটি সেতু হিসেবেও ভূমিকা রাখছে।
ফরিদ আহাম্মদ রনি মনে করেন, আলোকচিত্র শুধু নান্দনিক প্রকাশের মাধ্যম নয়, এটি ইতিহাস ও সময়কে সংরক্ষণেরও শক্তিশালী উপকরণ। তাঁর ক্যামেরায় মানুষের জীবন, সংস্কৃতির বৈচিত্র্য, সামাজিক পরিবর্তন এবং সময়ের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোকে ধারণ করার চেষ্টা রয়েছে। ‘প্যারিসের ছবি’ তাঁর সেই দীর্ঘ সৃজনশীল যাত্রারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ফ্রান্সের সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওলান্দসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের হাতে গ্রন্থটির পৌঁছে যাওয়া তাই শুধু একজন বাংলাদেশি আলোকচিত্রীর ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে নয়, আন্তর্জাতিক পরিসরে বাংলাদেশের শিল্প, আলোকচিত্র ও সাংস্কৃতিক পরিচিতিকে তুলে ধরার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
পড়ুন : নেপালে ভূমিকম্প-বন্যা, নিরাপদে অপু বিশ্বাস ও ‘শিকার’ টিম


